আজ রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার Logo বাংলাদেশের পেস ইতিহাসে হাসানের হ্যাটট্রিক
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

  • জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৯:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ১৯২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শহীদ পরিবারকে সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসায় এ তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে এটি প্রথম ব্যাংকার্স সভা। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গঠিতব্য বিশেষ তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা দেবে, আর ভালো পারফরম্যান্সের ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১ কোটি টাকা করে যোগান দেবে। প্রতিটি ব্যাংক নিজ নিজ বোর্ড সভায় অনুমোদন নিয়ে এ টাকা হস্তান্তর করবে।
বৈঠকে দেশে ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল ও আগের চেয়ে শক্তিশালী করতে একাধিক নির্দেশনার পাশাপাশি রফতানির আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে টাকা পাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সূত্র মতে, অর্থপাচার রোধে আগেও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, যেন গ্রাহকরা অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা পান, যাতে ব্যাংকে না গিয়েও কাজ করা যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।
ব্যাংকার্স সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংকগুলো তাদের মোট ঋণের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ হাউজিং লোন হিসেবে বিতরণ করে। এছাড়া একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হাউজ লোন নিতে পারেন।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতে, এই সীমা সময়োপযোগী নয়, তাই এটি আরও বাড়ানো দরকার।
এ বিষয়ে বৈঠকে গভর্নর বলেন, হাউজ লোনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হবে এবং এমন কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে একজন গ্রাহক তার প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী সহজে গৃহঋণ নিতে পারেন।
এছাড়া বর্তমানে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এই সীমাও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান গভর্নর।
সভা শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এলসি দায় পরিশোধের পরও যেসব ব্যাংক গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন তৈরি করছে না, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দায় পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্ডার ইনভয়েসিং ও অর্থপাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকার এখন সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কারণ এসব বিলে সুদের হার এখন বেশি, কর দিতে হয় না, চাইলে বিক্রি করা যায়, এমন কী বিনিয়োগের কোনো সীমাও নেই।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী

জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময়: ০৯:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় ২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শহীদ পরিবারকে সহায়তা ও আহতদের চিকিৎসায় এ তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে এটি প্রথম ব্যাংকার্স সভা। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গঠিতব্য বিশেষ তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা দেবে, আর ভালো পারফরম্যান্সের ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১ কোটি টাকা করে যোগান দেবে। প্রতিটি ব্যাংক নিজ নিজ বোর্ড সভায় অনুমোদন নিয়ে এ টাকা হস্তান্তর করবে।
বৈঠকে দেশে ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল ও আগের চেয়ে শক্তিশালী করতে একাধিক নির্দেশনার পাশাপাশি রফতানির আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে টাকা পাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সূত্র মতে, অর্থপাচার রোধে আগেও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, যেন গ্রাহকরা অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা পান, যাতে ব্যাংকে না গিয়েও কাজ করা যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।
ব্যাংকার্স সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংকগুলো তাদের মোট ঋণের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ হাউজিং লোন হিসেবে বিতরণ করে। এছাড়া একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হাউজ লোন নিতে পারেন।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতে, এই সীমা সময়োপযোগী নয়, তাই এটি আরও বাড়ানো দরকার।
এ বিষয়ে বৈঠকে গভর্নর বলেন, হাউজ লোনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হবে এবং এমন কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে একজন গ্রাহক তার প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী সহজে গৃহঋণ নিতে পারেন।
এছাড়া বর্তমানে গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এই সীমাও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান গভর্নর।
সভা শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এলসি দায় পরিশোধের পরও যেসব ব্যাংক গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন তৈরি করছে না, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দায় পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্ডার ইনভয়েসিং ও অর্থপাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকার এখন সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কারণ এসব বিলে সুদের হার এখন বেশি, কর দিতে হয় না, চাইলে বিক্রি করা যায়, এমন কী বিনিয়োগের কোনো সীমাও নেই।