আজ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে নারীরা Logo পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২ Logo পোল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে নিহত ১, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ২ Logo কলারোয়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Logo আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ আসামি গ্রেপ্তার Logo ধুলিহরে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে টাকা-অলঙ্কার লুট Logo ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সর্বাত্মক করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের Logo অসচ্ছল-মেধাবী ৫০ শিক্ষার্থী পেল স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ Logo দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও খাতা বিতরণ Logo সাতক্ষীরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি টিটু, সম্পাদক মামুন
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241
৮ শিক্ষক ও ২ কর্মচারীর বেতন নিয়ে প্রশ্ন

শ্যামনগরে বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে ১২২ ছাত্রী–বাস্তবে শিক্ষার্থীশুন্য

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাস্তবে কোনো ছাত্রী না থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থাতেও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রতিষ্ঠানজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। এক কক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা যায়। দুই কর্মচারীও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। তবে কোনো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে ১২২ জন ছাত্রীর তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে একজন ছাত্রীরও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে ১০ জন ছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছে। ফলে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও এমপিও সুবিধা অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাষ্য, একটি ছাত্রীশূন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকার পরও সরকারি অর্থে বেতন-ভাতা দেওয়া হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আসা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদ-এর কাছে শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। সরকার অন্যত্র বদলি করে দেবে—এমন বিধান আছে।” তবে শিক্ষার্থী সংকট নিরসনে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারব না।”
এদিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার মণ্ডল, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম ও সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথসহ কয়েকজনের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়টি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পৈয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। তাঁর দাবি, ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেলেও শিক্ষার্থী না থাকায় প্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, “বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী নেই—বিষয়টি আমি জানি। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাগজপত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখিয়ে একটি এমপিওভুক্ত বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতি, উপবৃত্তির তালিকা, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন এবং সরকারি বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে নারীরা

৮ শিক্ষক ও ২ কর্মচারীর বেতন নিয়ে প্রশ্ন

শ্যামনগরে বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে ১২২ ছাত্রী–বাস্তবে শিক্ষার্থীশুন্য

আপডেট সময়: ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাস্তবে কোনো ছাত্রী না থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থাতেও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রতিষ্ঠানজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। এক কক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা যায়। দুই কর্মচারীও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। তবে কোনো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে ১২২ জন ছাত্রীর তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে একজন ছাত্রীরও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে ১০ জন ছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছে। ফলে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও এমপিও সুবিধা অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাষ্য, একটি ছাত্রীশূন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকার পরও সরকারি অর্থে বেতন-ভাতা দেওয়া হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আসা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদ-এর কাছে শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। সরকার অন্যত্র বদলি করে দেবে—এমন বিধান আছে।” তবে শিক্ষার্থী সংকট নিরসনে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারব না।”
এদিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার মণ্ডল, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম ও সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথসহ কয়েকজনের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়টি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পৈয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। তাঁর দাবি, ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেলেও শিক্ষার্থী না থাকায় প্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, “বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী নেই—বিষয়টি আমি জানি। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাগজপত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখিয়ে একটি এমপিওভুক্ত বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতি, উপবৃত্তির তালিকা, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন এবং সরকারি বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।