সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারের সামনে প্রান্তিক যুব সংঘসহ সাতটি সামাজিক ও শিশু সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মূল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমমনা সংগঠনগুলো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো হলো—হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন, সৃজনশীল গাইবান্ধা, আয়াস বাংলাদেশ, বেতনা যুব উন্নয়ন সংস্থা, প্রান্তিক যুব সংঘ, ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) এবং ইয়াং স্পার্কস অব বাংলাদেশ।
মানববন্ধনে শিশু, তরুণ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা দেশে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রান্তিক যুব সংঘের সভাপতি হৃদয় মন্ডল বলেন, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। দেশে আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নেই। বিচারহীনতা ও আইনের শিথিলতার কারণেই শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।”
সমাবেশে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বক্তারা জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে দেশে অন্তত ১৯৯ শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ৩৪ জন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, সমাজজুড়ে মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতির কারণে শিশুরা কোথাও নিরাপদ নয়। তারা শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসাও করেন আন্দোলনকারীরা। আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশু রামিসার জন্য পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আজকের বাণী 
























