বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের কারণে তাঁর ডান পা অবশ হয়ে যায়। পরবর্তীতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন তিনি।
কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন শিশু-কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
প্রায় ছয় দশক ধরে ছড়া রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেন সুকুমার বড়ুয়া। ব্যঙ্গ, রস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তাঁর ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রায় তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা ও জীবনের ভেতরে বাইরে।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা ও চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেন।
রিপোর্টার 



























