আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৫ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৫ দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, সাতক্ষীরা জেলা শাখা।
রোববার (৫ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আলতাফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন। পরিচালনা করেন মো. রবিউল ইসলাম।
শিক্ষক নেতারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান জনতার সরকার নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
তারা জানান, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতি, পদসোপান ও চাকরিগত সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে এসব বিদ্যালয়ে পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪ শতাংশ। ফলে ৩০ বছরের বেশি চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষককে পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হচ্ছে। অনিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া ও শূন্য পদ না পূরণ করায় শিক্ষক সমাজে হতাশা তৈরি হচ্ছে, যা মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষক সমাজের ৫ দফা দাবিগুলো হলো, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করে চারস্তরীয় পদসোপান প্রবর্তন।
আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংরক্ষণসহ সকল কার্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা।
বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন সম্পন্ন করা। বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দ্রুত মঞ্জুর করা।
বক্তারা বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে বর্তমানে ৯টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিস, ৫১৬টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ ৭০৬টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২১ হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যানবেইস-এর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯০ লাখেরও বেশি। অথচ এত বৃহৎ শিক্ষা কাঠামো পরিচালনায় মাউশিতে বর্তমানে মাত্র একজন উপপরিচালক ও দুইজন সহকারী পরিচালক রয়েছেন, যা শিক্ষাপ্রশাসনের জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
তারা আরও জানান, জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০-এ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে পৃথক করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ ও ‘উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে মাত্র ১,২৬৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য “কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর” এবং ৯,৬৫৬টি মাদ্রাসার জন্য “মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর” গঠিত হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা মনে করেন, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি সময়সূচিভিত্তিক সংস্কার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। শিক্ষক সমাজ আশাবাদী, সেই পরিকল্পনায় “স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর” প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবে রূপ নেবে।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৫ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ১১:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৫ দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, সাতক্ষীরা জেলা শাখা।
রোববার (৫ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আলতাফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন। পরিচালনা করেন মো. রবিউল ইসলাম।
শিক্ষক নেতারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান জনতার সরকার নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
তারা জানান, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতি, পদসোপান ও চাকরিগত সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে এসব বিদ্যালয়ে পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪ শতাংশ। ফলে ৩০ বছরের বেশি চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষককে পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হচ্ছে। অনিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া ও শূন্য পদ না পূরণ করায় শিক্ষক সমাজে হতাশা তৈরি হচ্ছে, যা মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষক সমাজের ৫ দফা দাবিগুলো হলো, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করে চারস্তরীয় পদসোপান প্রবর্তন।
আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংরক্ষণসহ সকল কার্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা।
বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন সম্পন্ন করা। বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল দ্রুত মঞ্জুর করা।
বক্তারা বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে বর্তমানে ৯টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা শিক্ষা অফিস, ৫১৬টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ ৭০৬টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২১ হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যানবেইস-এর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯০ লাখেরও বেশি। অথচ এত বৃহৎ শিক্ষা কাঠামো পরিচালনায় মাউশিতে বর্তমানে মাত্র একজন উপপরিচালক ও দুইজন সহকারী পরিচালক রয়েছেন, যা শিক্ষাপ্রশাসনের জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
তারা আরও জানান, জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০-এ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে পৃথক করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ ও ‘উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে মাত্র ১,২৬৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য “কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর” এবং ৯,৬৫৬টি মাদ্রাসার জন্য “মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর” গঠিত হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা মনে করেন, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি সময়সূচিভিত্তিক সংস্কার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। শিক্ষক সমাজ আশাবাদী, সেই পরিকল্পনায় “স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর” প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবে রূপ নেবে।