আজ বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির পরিকল্পনা পরিত্যাগ যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০১:৫১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের। তবে কূটনীতিকরা জানান, সেই পরিকল্পনা ত্যাগ করতে যাচ্ছে দেশ দুটি। ১৭ থেকে ২০ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে লবিং করছিল ফ্রান্স ।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে ‘নৈতিক কর্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রয়োজন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সম্মেলনে সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পারে।

তবে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ফরাসি কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে তাদের ইসরাইলি প্রতিপক্ষদের অবহিত করেছেন, সম্মেলনটি স্বীকৃতির জন্য উপযুক্ত সময় নয়। এর পরিবর্তে এটি এখন স্বীকৃতির দিকে পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখার ওপর আলোকপাত করবে। ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ছাড়ের উপর এটা নির্ভর করবে। এর মধ্যে থাকবে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং গাজায় হামাসের শাসনের অবসান।

শুক্রবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোঁ বলেছেন, সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া একটি ‘প্রতীকী’ সিদ্ধান্ত হতো। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে তাদের একটি ‘বিশেষ দায়িত্ব’ হলো তারা মিত্রদের সমর্থন ছাড়া এটি করতে পারবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর ফলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত হতে পারে। এখন অবধি ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেও ইউরোপের বেশিরভাগ রাষ্ট্র অনিচ্ছুক। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল ইসরাইলের অনুমোদন এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই আসতে পারে।

আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ে গত বছর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় হিসেবে আসা উচিত। গত সপ্তাহে ইসরাইলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের প্রচেষ্টা ‘গুরুতর এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ ও সৌদি আরবের সমর্থন পেয়েছে’।

তবে স্বীকৃতির পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির পরিকল্পনা পরিত্যাগ যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের

আপডেট সময়: ০১:৫১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের। তবে কূটনীতিকরা জানান, সেই পরিকল্পনা ত্যাগ করতে যাচ্ছে দেশ দুটি। ১৭ থেকে ২০ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে লবিং করছিল ফ্রান্স ।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে ‘নৈতিক কর্তব্য এবং রাজনৈতিক প্রয়োজন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সম্মেলনে সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পারে।

তবে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ফরাসি কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে তাদের ইসরাইলি প্রতিপক্ষদের অবহিত করেছেন, সম্মেলনটি স্বীকৃতির জন্য উপযুক্ত সময় নয়। এর পরিবর্তে এটি এখন স্বীকৃতির দিকে পদক্ষেপ গ্রহণের রূপরেখার ওপর আলোকপাত করবে। ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ছাড়ের উপর এটা নির্ভর করবে। এর মধ্যে থাকবে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তি, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং গাজায় হামাসের শাসনের অবসান।

শুক্রবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোঁ বলেছেন, সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া একটি ‘প্রতীকী’ সিদ্ধান্ত হতো। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে তাদের একটি ‘বিশেষ দায়িত্ব’ হলো তারা মিত্রদের সমর্থন ছাড়া এটি করতে পারবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর ফলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত হতে পারে। এখন অবধি ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেও ইউরোপের বেশিরভাগ রাষ্ট্র অনিচ্ছুক। এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল ইসরাইলের অনুমোদন এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই আসতে পারে।

আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ে গত বছর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় হিসেবে আসা উচিত। গত সপ্তাহে ইসরাইলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের প্রচেষ্টা ‘গুরুতর এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশ ও সৌদি আরবের সমর্থন পেয়েছে’।

তবে স্বীকৃতির পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে।