আজ শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

বাভুমাদের পথেই কি বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা?

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
একসময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে কেউ হিসাবেই রাখেনি। ২০২৩-২৫ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে হার—সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা সাত টেস্ট জিতে লর্ডসের ফাইনালে জায়গা করে নেয় প্রোটিয়ারা। পরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপাও জেতে টেম্বা বাভুমার দল। সেই গল্প এখন বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণা।

বর্তমান ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখছে সেরা চারে ওঠার। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে দুটি জয়, একটি ড্র ও একটি হারে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সামনে আছে আরও আটটি টেস্ট। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেলে বাংলাদেশেরও লর্ডসের ব্যালকনিতে বসার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে। বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে দলের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তাঁর বিশ্বাস, ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকতে পারলে আর বিদেশে অন্তত কিছু ইতিবাচক ফল আনতে পারলে বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে।

“মূল লক্ষ্য হলো, দেশের মাটিতে যতগুলো টেস্ট আছে, সেগুলোতে যেন না হারি। যদি আমরা তা পারি এবং বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সিরিজে দু-একটা টেস্ট জিততে পারি, তাহলে শীর্ষ চারে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব,” বলেন সালাউদ্দিন।

যদিও আগামী মাস থেকে তিনি বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন, তবু জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। গেল দুই বছরে দলের ভেতরে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন, “দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারের অবসরে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেটি পূরণ হতে সময় লাগবে। তবে এখন অনেক খেলোয়াড় পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দলে একটা উইনিং কালচার তৈরি হচ্ছে। আগে একটি ম্যাচ জিতলে পরের কয়েকটি হেরে যেতাম। এখন সেই মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে।” আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে আরও দুটি টেস্ট খেলবে শান্তরা। এ ছাড়া আগামী বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট রয়েছে সূচিতে।

এই আট ম্যাচের মধ্যে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো ফল করাই হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অন্তত একটি করে ইতিবাচক ফল—জয় কিংবা ড্র—পেলে সেরা চারের স্বপ্ন আরও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।

গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ১২ ম্যাচে মাত্র চারটি জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ঘরের মাঠে উন্নত পারফরম্যান্স এবার দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার ঘরের মাঠকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে চায় বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে পারবে কি শান্তর দল—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

বাভুমাদের পথেই কি বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা?

আপডেট সময়: ১০:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
একসময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে কেউ হিসাবেই রাখেনি। ২০২৩-২৫ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে হার—সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা সাত টেস্ট জিতে লর্ডসের ফাইনালে জায়গা করে নেয় প্রোটিয়ারা। পরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপাও জেতে টেম্বা বাভুমার দল। সেই গল্প এখন বাংলাদেশের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণা।

বর্তমান ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখছে সেরা চারে ওঠার। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে দুটি জয়, একটি ড্র ও একটি হারে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সামনে আছে আরও আটটি টেস্ট। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেলে বাংলাদেশেরও লর্ডসের ব্যালকনিতে বসার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে। বৃহস্পতিবার মিরপুর একাডেমি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে দলের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তাঁর বিশ্বাস, ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকতে পারলে আর বিদেশে অন্তত কিছু ইতিবাচক ফল আনতে পারলে বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে।

“মূল লক্ষ্য হলো, দেশের মাটিতে যতগুলো টেস্ট আছে, সেগুলোতে যেন না হারি। যদি আমরা তা পারি এবং বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সিরিজে দু-একটা টেস্ট জিততে পারি, তাহলে শীর্ষ চারে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব,” বলেন সালাউদ্দিন।

যদিও আগামী মাস থেকে তিনি বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন, তবু জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। গেল দুই বছরে দলের ভেতরে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন, “দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারের অবসরে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেটি পূরণ হতে সময় লাগবে। তবে এখন অনেক খেলোয়াড় পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দলে একটা উইনিং কালচার তৈরি হচ্ছে। আগে একটি ম্যাচ জিতলে পরের কয়েকটি হেরে যেতাম। এখন সেই মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে।” আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে আরও দুটি টেস্ট খেলবে শান্তরা। এ ছাড়া আগামী বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট রয়েছে সূচিতে।

এই আট ম্যাচের মধ্যে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো ফল করাই হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অন্তত একটি করে ইতিবাচক ফল—জয় কিংবা ড্র—পেলে সেরা চারের স্বপ্ন আরও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।

গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ১২ ম্যাচে মাত্র চারটি জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ঘরের মাঠে উন্নত পারফরম্যান্স এবার দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবার ঘরের মাঠকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে চায় বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে পারবে কি শান্তর দল—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।