আজ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ Logo জনগণকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে: এমপি মারদিয়া মমতাজ Logo খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ Logo দেবহাটায় সরকারি জমিতে পাকাঁ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ Logo টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo আশাশুনিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo আশাশুনি সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ Logo জাল নোট ঠেকাতে সাতক্ষীরার পশুর হাটে র‌্যাবের আধুনিক বুথ চালু Logo বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা Logo উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১১:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে জ্বালানি মিলছে না। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এর মধ্যে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তেমনভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। এ কারণে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি পড়েছে। ঈদ ও ছুটির কারণে সংখ্যাটি কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে টাকার সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট আবেদন সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ এসব আবেদন অনলাইনে করা হয়। তবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমছে পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি, আর বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা। সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত। শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মোট বিক্রি বেড়েছে। তবে তেলচালিত বাইক কমে গেছে, মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। তেলের সংকটই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, শহরের চায়না বাংলা মোড়ে অবস্থিত ‘ইকো মটরস’-এর ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ৮-১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯-১০টি বিক্রি হলেও মার্চে এসে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের বাইকের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। জ্বালানি পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ

সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

আপডেট সময়: ১১:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে জ্বালানি মিলছে না। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এর মধ্যে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তেমনভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। এ কারণে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি পড়েছে। ঈদ ও ছুটির কারণে সংখ্যাটি কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে টাকার সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট আবেদন সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ এসব আবেদন অনলাইনে করা হয়। তবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমছে পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি, আর বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা। সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত। শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মোট বিক্রি বেড়েছে। তবে তেলচালিত বাইক কমে গেছে, মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। তেলের সংকটই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, শহরের চায়না বাংলা মোড়ে অবস্থিত ‘ইকো মটরস’-এর ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ৮-১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯-১০টি বিক্রি হলেও মার্চে এসে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের বাইকের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। জ্বালানি পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।