বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর পালপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ হামলা, কিশোরী লাঞ্ছনা ও একই পরিবারের তিনজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে উঠে আসা কাজী মঈনুর হোসেন বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন পেয়েই ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার পুনরায় তৎপরতায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে মইনুল ও তার লোকজন।
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সুলতানপুর পালপাড়া সড়কে প্রকাশ্যে রেবেকা খাতুন, তার ছেলে মোঃ সেতু এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী রোকসানা আক্তারের ওপর কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পথরোধ করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। কুড়াল দিয়ে কোপ, লাঠিপেটা ও কিল-ঘুষিতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
হামলার একপর্যায়ে কিশোরী রোকসানা আক্তারের কাপড় টানাহেঁচড়া করে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং বুকে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়—যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন সাতক্ষীরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় রুজু হয়েছে এবং তদন্তভার পেয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ মনিরুজ্জামান।
তবে গুরুতর এই ঘটনায় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে অভিযুক্ত কাজী মঈনুর হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় শুরু থেকেই ক্ষোভ ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। এর মধ্যেই ২৪ মার্চ মঙ্গলবার তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে এসে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জামিনে বেরিয়ে কাজী মঈনুর প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে এবং বলছে—তার বিরুদ্ধে মামলা করায় সংশ্লিষ্টদের দেখে নেওয়া হবে। এমনকি পুনরায় সহিংসতার ইঙ্গিতও দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—এত গুরুতর হামলা ও নারী লাঞ্ছনার ঘটনার পরও কেন কার্যকরভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি কিন্তু আমরা জানতে পারলাম আসমিরা গোপনে জামিন নিয়েছে। তবে জামিন নেয়ার পরে সে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কাজী মঈনুরের মতো ব্যক্তিদের বেপরোয়া আচরণ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তারা অবিলম্বে পুনরায় গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবী করেছেন নব্য সন্ত্রাসী মইনূর ভবিষ্যতেও যেন এমন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে। আমরা মনে করি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এবং আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আইন সবার জন্য সমান কারো উর্ধ্বে নয়।
রিপোর্টার 






















