আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ Logo জনগণকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে: এমপি মারদিয়া মমতাজ Logo খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ Logo দেবহাটায় সরকারি জমিতে পাকাঁ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ Logo টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo আশাশুনিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo আশাশুনি সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ Logo জাল নোট ঠেকাতে সাতক্ষীরার পশুর হাটে র‌্যাবের আধুনিক বুথ চালু Logo বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা Logo উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরায় শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে ৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:৩০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতি গঠনে শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই-এই বার্তা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় সম্পন্ন হয়েছে শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা বিষয়ক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার মোজাফফর গার্ডেনের প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এই কর্মশালার সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ, সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো সাংবাদিকতার মাধ্যমে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা দিতেই এই বিশেষ আয়োজন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি। তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শিশুদের পরিচয়, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একটি সংবেদনশীল প্রতিবেদন শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘আইসিবিসি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সিনারগোস এবং সিআইপিআরবি, উত্তরণসহ মোট আটটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। চার দিনের এই নিবিড় প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণকালীন সেশনগুলোতে শিশু আইন, শিশু অধিকার, নৈতিক সাংবাদিকতা ও ফিল্ড রিপোর্টিং বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাসিনা আক্তার, সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, সিআইআরপিবি’র ড. জুবায়ের আলম, সিনারগোজের সাজিয়া আফরিন, সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক ও সমষ্টির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, বাগেরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক বাবুল সরদার,  পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক এনায়েতুর রহমান, বরগুনার সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল ও মুশফিক আরিফ এবং সাতক্ষীরার সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘সমষ্টি’র জাহিদুল আলম খান। চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি সংগঠন ‘সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর আত্তাকী মাসরুর জামান রনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
আগেকার দিনে মায়েরা যখন রান্না করতেন বা কাজে যেতেন, তখন তারা প্রতিবেশী বা স্বজনদের কাছে নিশ্চিন্তে সন্তানকে রেখে যেতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে নগরায়ণ ও ব্যস্ততার কারণে সেই পারিবারিক বা সামাজিক সুরক্ষাবলয়টি আর নেই। ফলে শিশুদের নিরাপদ প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের জন্য ‘শিশু যত্ন কেন্দ্র’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৮টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় ‘আইসিবিসি’ প্রকল্পের এই বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্ত বা ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যার জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থাও করা হবে।
সমাজ ও শিশুদের কল্যাণে গণমাধ্যমের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা নিজের বিবেকের জায়গা থেকে এবং সমাজের অংশ হিসেবে কোনটি ইতিবাচক আর কোনটি নেতিবাচক তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেন। শিশুদের উন্নয়নে গণমাধ্যমে কী ধরনের তথ্য আসা উচিত এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা কীভাবে পৌঁছানো দরকার, সংবাদকর্মীরা তা দায়িত্বের সাথে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হয়।

অনুষ্ঠানে এক অঞ্চলের শিশু যত্ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের অন্য অঞ্চলে পাঠানো বা ‘ক্রস ভিজিট’-এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ছোট কেন্দ্রগুলোতে একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হয়। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিদর্শন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ

সাতক্ষীরায় শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে ৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

আপডেট সময়: ১০:৩০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতি গঠনে শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই-এই বার্তা সামনে রেখে সাতক্ষীরায় সম্পন্ন হয়েছে শিশু বিষয়ক সাংবাদিকতা বিষয়ক চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার মোজাফফর গার্ডেনের প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এই কর্মশালার সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ, সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো সাংবাদিকতার মাধ্যমে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা দিতেই এই বিশেষ আয়োজন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি। তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শিশুদের পরিচয়, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একটি সংবেদনশীল প্রতিবেদন শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘আইসিবিসি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সিনারগোস এবং সিআইপিআরবি, উত্তরণসহ মোট আটটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। চার দিনের এই নিবিড় প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণকালীন সেশনগুলোতে শিশু আইন, শিশু অধিকার, নৈতিক সাংবাদিকতা ও ফিল্ড রিপোর্টিং বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাসিনা আক্তার, সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, সিআইআরপিবি’র ড. জুবায়ের আলম, সিনারগোজের সাজিয়া আফরিন, সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক ও সমষ্টির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, বাগেরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক বাবুল সরদার,  পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক এনায়েতুর রহমান, বরগুনার সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল ও মুশফিক আরিফ এবং সাতক্ষীরার সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘সমষ্টি’র জাহিদুল আলম খান। চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি সংগঠন ‘সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর আত্তাকী মাসরুর জামান রনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
আগেকার দিনে মায়েরা যখন রান্না করতেন বা কাজে যেতেন, তখন তারা প্রতিবেশী বা স্বজনদের কাছে নিশ্চিন্তে সন্তানকে রেখে যেতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে নগরায়ণ ও ব্যস্ততার কারণে সেই পারিবারিক বা সামাজিক সুরক্ষাবলয়টি আর নেই। ফলে শিশুদের নিরাপদ প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের জন্য ‘শিশু যত্ন কেন্দ্র’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৮টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় ‘আইসিবিসি’ প্রকল্পের এই বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্ত বা ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যার জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থাও করা হবে।
সমাজ ও শিশুদের কল্যাণে গণমাধ্যমের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা নিজের বিবেকের জায়গা থেকে এবং সমাজের অংশ হিসেবে কোনটি ইতিবাচক আর কোনটি নেতিবাচক তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেন। শিশুদের উন্নয়নে গণমাধ্যমে কী ধরনের তথ্য আসা উচিত এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা কীভাবে পৌঁছানো দরকার, সংবাদকর্মীরা তা দায়িত্বের সাথে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হয়।

অনুষ্ঠানে এক অঞ্চলের শিশু যত্ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের অন্য অঞ্চলে পাঠানো বা ‘ক্রস ভিজিট’-এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ছোট কেন্দ্রগুলোতে একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হয়। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পরিদর্শন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।