আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সুন্দরবনে জেলেদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৭:২২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর ব্যুরো: সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশ করতে জেলেদের দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেটের দালালদের মাধ্যমে যেতে হচ্ছে। বনবিভাগের নাকের ডগায় থাকলেও এসব অনিয়ম থামছে না বলে অভিযোগ জেলেদের। প্রতিবাদ করলেও বন্ধ হয়ে যায় তাদের মাছ-কাঁকড়া ধরার সুযোগ, তাই বাধ্য হয়ে দালালদের শর্ত মেনে চলছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাশ-পারমিট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রেঞ্জজুড়ে প্রায় ৫০ জন দালাল সক্রিয়। এরা হলেন কৈখালী স্টেশনে শহিদুল, বুলবুল। কদমতলা স্টেশনে রহিম, রশিদ, আকবর, আমজাত (বড়), আব্দুল (মাস্টার), হাফিজুর, রফিকুল (ছোট)। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে ইসমাইল সানা, শহিদুল মোল্ল্যা, হাসান, জালাল মোল্ল্যা, সাইদ, শহিদুল মোড়ল, হোসেন। কোবাদক স্টেশনে মাছুম ঢালী, লুৎফর শেখ, লুৎফর মোল্ল্যা। এ ছাড়া আরও তিন ডজনের মতো দালাল পাশ-পারমিট তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য নির্ধারিত ফি থাকলেও দালালরা জেলে- প্রতি অতিরিক্ত ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক জেলের নিজস্ব বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নেই, কেউ কেউ আবার অন্য পেশায় চলে গিয়ে নিজেদের বিএলসি ভাড়া দেন। ওইসব ভাড়া বিএলসি ব্যবহার করেই অনেকে দালালদের মাধ্যমে পাশ নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, “রুটিরুজি পুরোপুরি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। কথা বললে পরে বনে ঢুকতেই দেওয়া হবে না। তাই বাধ্য হয়ে সব সহ্য করি।” অন্যদিকে কিছু দালাল দাবি করেছেন, তারা নাকি “মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা” নেন।
অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুল হক বলেন, “এটি বন্ধ করতে জেলেদের সচেতন হতে হবে। তারা অফিসে এসে পাশ করাতে চায় না, তাই দালালরা সুযোগ নেয়।” নিজস্ব লাইসেন্স ছাড়া ভাড়া বিএলসি দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী পারে না- তবে সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।”

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে জেলেদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৭:২২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

শ্যামনগর ব্যুরো: সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশ করতে জেলেদের দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ডিকেটের দালালদের মাধ্যমে যেতে হচ্ছে। বনবিভাগের নাকের ডগায় থাকলেও এসব অনিয়ম থামছে না বলে অভিযোগ জেলেদের। প্রতিবাদ করলেও বন্ধ হয়ে যায় তাদের মাছ-কাঁকড়া ধরার সুযোগ, তাই বাধ্য হয়ে দালালদের শর্ত মেনে চলছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাশ-পারমিট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রেঞ্জজুড়ে প্রায় ৫০ জন দালাল সক্রিয়। এরা হলেন কৈখালী স্টেশনে শহিদুল, বুলবুল। কদমতলা স্টেশনে রহিম, রশিদ, আকবর, আমজাত (বড়), আব্দুল (মাস্টার), হাফিজুর, রফিকুল (ছোট)। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে ইসমাইল সানা, শহিদুল মোল্ল্যা, হাসান, জালাল মোল্ল্যা, সাইদ, শহিদুল মোড়ল, হোসেন। কোবাদক স্টেশনে মাছুম ঢালী, লুৎফর শেখ, লুৎফর মোল্ল্যা। এ ছাড়া আরও তিন ডজনের মতো দালাল পাশ-পারমিট তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য নির্ধারিত ফি থাকলেও দালালরা জেলে- প্রতি অতিরিক্ত ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক জেলের নিজস্ব বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নেই, কেউ কেউ আবার অন্য পেশায় চলে গিয়ে নিজেদের বিএলসি ভাড়া দেন। ওইসব ভাড়া বিএলসি ব্যবহার করেই অনেকে দালালদের মাধ্যমে পাশ নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, “রুটিরুজি পুরোপুরি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। কথা বললে পরে বনে ঢুকতেই দেওয়া হবে না। তাই বাধ্য হয়ে সব সহ্য করি।” অন্যদিকে কিছু দালাল দাবি করেছেন, তারা নাকি “মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা” নেন।
অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুল হক বলেন, “এটি বন্ধ করতে জেলেদের সচেতন হতে হবে। তারা অফিসে এসে পাশ করাতে চায় না, তাই দালালরা সুযোগ নেয়।” নিজস্ব লাইসেন্স ছাড়া ভাড়া বিএলসি দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী পারে না- তবে সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে।”