আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

কপ ৩০: জেলা ম্যাপ কমিটির সভা ও মানববন্ধন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৪:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থায়ন ও বীমা বিষয়ে জেলা পর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, কৃষক, জেলে, নারী ও যুব প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর এবং সঞ্চালনা করেন জেলা ম্যাপ কমিটির সদস্য সচিব শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, উপকূলীয় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। গত পাঁচ দশকে উপকূলে ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন হেক্টর জমি লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্ত, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবিকা বদলাচ্ছে; জেলে, কৃষক ও দিনমজুররা বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছে। সভায় উপস্থিতরা একমত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে ভূমিকা সামান্য হলেও জলবায়ু ঝুঁকিতে দেশটি শীর্ষে। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দাবি শক্তভাবে তুলে ধরা জরুরি। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কপ৩০ সম্মেলনকে সামনে রেখে মানববন্ধন আয়োজন করেন এবং বিশ্ব নেতাদের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন- ১. তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন: পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি অর্থায়ন; ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার। ২. প্রবেশযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন: স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি সংগঠনের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানো; জটিল প্রক্রিয়া দূর করা। ৩. অ-অর্থনৈতিক ক্ষতির স্বীকৃতি: মানসিক স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, স্থানচ্যুতি ও সামাজিক বন্ধনকে অন্তর্ভুক্ত করা। ৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর: সৌরশক্তি, পানিশোধন প্রযুক্তি, লবণ-সহিষ্ণু সমাধান, শক্তি-দক্ষ চুলা ও নর্দমা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ৫. লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। ৬. জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা: উচ্চ-নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন হেলেনা খাতুন, মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ (অব.) আশেক ই এলাহী, শেখ হেদায়েত উল্লাহ, আফজাল হোসেন, এড. মুনীর উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

কপ ৩০: জেলা ম্যাপ কমিটির সভা ও মানববন্ধন

আপডেট সময়: ০৪:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থায়ন ও বীমা বিষয়ে জেলা পর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, কৃষক, জেলে, নারী ও যুব প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর এবং সঞ্চালনা করেন জেলা ম্যাপ কমিটির সদস্য সচিব শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, উপকূলীয় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। গত পাঁচ দশকে উপকূলে ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন হেক্টর জমি লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্ত, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবিকা বদলাচ্ছে; জেলে, কৃষক ও দিনমজুররা বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছে। সভায় উপস্থিতরা একমত হয়ে বলেন, বাংলাদেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে ভূমিকা সামান্য হলেও জলবায়ু ঝুঁকিতে দেশটি শীর্ষে। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দাবি শক্তভাবে তুলে ধরা জরুরি। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কপ৩০ সম্মেলনকে সামনে রেখে মানববন্ধন আয়োজন করেন এবং বিশ্ব নেতাদের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন- ১. তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন: পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি অর্থায়ন; ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার। ২. প্রবেশযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন: স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি সংগঠনের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানো; জটিল প্রক্রিয়া দূর করা। ৩. অ-অর্থনৈতিক ক্ষতির স্বীকৃতি: মানসিক স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, স্থানচ্যুতি ও সামাজিক বন্ধনকে অন্তর্ভুক্ত করা। ৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর: সৌরশক্তি, পানিশোধন প্রযুক্তি, লবণ-সহিষ্ণু সমাধান, শক্তি-দক্ষ চুলা ও নর্দমা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ৫. লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। ৬. জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা: উচ্চ-নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন হেলেনা খাতুন, মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ (অব.) আশেক ই এলাহী, শেখ হেদায়েত উল্লাহ, আফজাল হোসেন, এড. মুনীর উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।