আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতার বিপর্যয়ে আশার আলো ব্রি ধান–১০৩

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৩:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, সাতক্ষীরা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকায় এবার নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান–১০৩। দীর্ঘদিন পানি তলিয়ে থাকা জমিতেও টিকে থাকার ক্ষমতা এবং উচ্চ ফলনশীলতার কারণে এ জাত কৃষকের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তালা উপজেলার আড়ংপাড়ার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই বছর বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। জেলার অর্ধেকের বেশি জমি দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে ছিল। কিন্তু ব্রি–১০৩ পানির মধ্যে থেকেও মাথা উঁচু করে বেড়ে উঠেছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”

ব্রি খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ইনচার্জ মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজ্জাদুর রহমান জানান, “ব্রি–১০৩ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করেছে। এটি চিকন ধানের জাত, আর এ অঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। গড়ে ফলন প্রতি হেক্টরে ৬.২ টন, পরিচর্যা ভালো হলে ৭.৯৮ টন পর্যন্ত। জীবনকাল মাত্র ১৩০ দিন, ফলে এক ফসলী জমিকে দুই ফসলী এবং দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলী জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

রবিবার সাতক্ষীরার সন্ন্যাসগাছায় ব্রি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ব্রি ধান–১০৩ ফসল কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবস। উৎসবে শত শত কৃষক অংশ নেন এবং বৈজ্ঞানিক ও কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যা তুলে ধরেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্রি–১০৩ শুধুমাত্র নতুন ধানের জাত নয়, এটি উপকূলীয় এলাকার খাদ্য নিরাপত্তার নতুন ভরসা।”

ব্রি ধান–১০৩-এর উৎপাদনশীলতা, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জলাবদ্ধ এলাকায় টিকে থাকার ক্ষমতা কৃষককে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ধান চাষে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হলো।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতার বিপর্যয়ে আশার আলো ব্রি ধান–১০৩

আপডেট সময়: ০৩:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, সাতক্ষীরা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকায় এবার নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান–১০৩। দীর্ঘদিন পানি তলিয়ে থাকা জমিতেও টিকে থাকার ক্ষমতা এবং উচ্চ ফলনশীলতার কারণে এ জাত কৃষকের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

তালা উপজেলার আড়ংপাড়ার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই বছর বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। জেলার অর্ধেকের বেশি জমি দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে ছিল। কিন্তু ব্রি–১০৩ পানির মধ্যে থেকেও মাথা উঁচু করে বেড়ে উঠেছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”

ব্রি খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ইনচার্জ মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজ্জাদুর রহমান জানান, “ব্রি–১০৩ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করেছে। এটি চিকন ধানের জাত, আর এ অঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। গড়ে ফলন প্রতি হেক্টরে ৬.২ টন, পরিচর্যা ভালো হলে ৭.৯৮ টন পর্যন্ত। জীবনকাল মাত্র ১৩০ দিন, ফলে এক ফসলী জমিকে দুই ফসলী এবং দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলী জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

রবিবার সাতক্ষীরার সন্ন্যাসগাছায় ব্রি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ব্রি ধান–১০৩ ফসল কর্তন উৎসব ও মাঠ দিবস। উৎসবে শত শত কৃষক অংশ নেন এবং বৈজ্ঞানিক ও কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যা তুলে ধরেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্রি–১০৩ শুধুমাত্র নতুন ধানের জাত নয়, এটি উপকূলীয় এলাকার খাদ্য নিরাপত্তার নতুন ভরসা।”

ব্রি ধান–১০৩-এর উৎপাদনশীলতা, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জলাবদ্ধ এলাকায় টিকে থাকার ক্ষমতা কৃষককে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ধান চাষে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হলো।