আজ বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সুন্দরবনের ছায়াতলে জন্ম নেওয়া কাঁকড়া মাতাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার বাজার

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১২:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

আব্দুর রহমান: সুন্দরবনের পাড়ঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নতুন সম্ভাবনার নাম সফটশেল কাঁকড়া। এই নরম খোসার কাঁকড়া এখন এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে জনপ্রিয় পণ্য। চিংড়ির বিকল্প আয় হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে এ চাষ। খামারগুলোতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন, ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। শ্যামনগরের কলবাড়ী গ্রামের সেলিম হোসেন আগে ছিলেন নদীনির্ভর জেলে। এখন সফল সফটশেল কাঁকড়া চাষি। তিনি বলেন, “আগে নদীতে কাঁকড়া ধরেই সংসার চালাতাম, এখন নিজের খামারে স্থানীয় ছেলেরা কাজ করছে- এই চাষই বদলে দিয়েছে আমার ভাগ্য।” সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরে ৩৬৪ জন চাষি প্রায় ৩২১ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ করছেন। বছরে উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন, যার মাধ্যমে ৬০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর রপ্তানি আয় হয়েছিল ৮ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল কায়ূম আবু জানান, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সাতক্ষীরার কাঁকড়ার মান চাহিদাসম্পন্ন। ২০১৪ সালে প্রথম প্লাস্টিকের খাঁচায় এই চাষ শুরু হয়, এখন তা একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম বলেন, দেশে-বিদেশে সফটশেল কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে হ্যাচারি স্থাপন করা গেলে উৎপাদন ও বৈদেশিক আয় আরও বাড়বে। তিনি জানান, শ্যামনগরের মাত্র দুটি ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৬৫টি বাণিজ্যিক খামার, বছরে উৎপাদন প্রায় ২ হাজার টন, আর কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। উপকূলীয় শ্যামনগরে সফটশেল কাঁকড়া চাষ এখন অর্থনীতিতে নতুন আলো ছড়াচ্ছে- পরিবারকে করছে স্বাবলম্বী, আর উন্মোচন করছে বৈদেশিক আয়ের নতুন দিগন্ত।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ছায়াতলে জন্ম নেওয়া কাঁকড়া মাতাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার বাজার

আপডেট সময়: ১২:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

আব্দুর রহমান: সুন্দরবনের পাড়ঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নতুন সম্ভাবনার নাম সফটশেল কাঁকড়া। এই নরম খোসার কাঁকড়া এখন এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে জনপ্রিয় পণ্য। চিংড়ির বিকল্প আয় হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে এ চাষ। খামারগুলোতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন, ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। শ্যামনগরের কলবাড়ী গ্রামের সেলিম হোসেন আগে ছিলেন নদীনির্ভর জেলে। এখন সফল সফটশেল কাঁকড়া চাষি। তিনি বলেন, “আগে নদীতে কাঁকড়া ধরেই সংসার চালাতাম, এখন নিজের খামারে স্থানীয় ছেলেরা কাজ করছে- এই চাষই বদলে দিয়েছে আমার ভাগ্য।” সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরে ৩৬৪ জন চাষি প্রায় ৩২১ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ করছেন। বছরে উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন, যার মাধ্যমে ৬০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর রপ্তানি আয় হয়েছিল ৮ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল কায়ূম আবু জানান, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সাতক্ষীরার কাঁকড়ার মান চাহিদাসম্পন্ন। ২০১৪ সালে প্রথম প্লাস্টিকের খাঁচায় এই চাষ শুরু হয়, এখন তা একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম বলেন, দেশে-বিদেশে সফটশেল কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে হ্যাচারি স্থাপন করা গেলে উৎপাদন ও বৈদেশিক আয় আরও বাড়বে। তিনি জানান, শ্যামনগরের মাত্র দুটি ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৬৫টি বাণিজ্যিক খামার, বছরে উৎপাদন প্রায় ২ হাজার টন, আর কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। উপকূলীয় শ্যামনগরে সফটশেল কাঁকড়া চাষ এখন অর্থনীতিতে নতুন আলো ছড়াচ্ছে- পরিবারকে করছে স্বাবলম্বী, আর উন্মোচন করছে বৈদেশিক আয়ের নতুন দিগন্ত।