আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

পরিবেশ দিবসেও যুবলীগ নেতাদের পাহাড় কাটার মহোৎসব

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪
  • ২৬১ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের থানচিতে পরিবেশ দিবসেও চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। প্রতি বছর এ দিনে আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। এই দিনে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে সারা বিশ্বে নানা প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রচার চালিয়ে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। সেখানে বান্দরবানের থানচিতে সরকারি উন্নয়নের নামে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে যুবলীগ নেতারা বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ জুন) থানচি উপজেলা সদরের মরিয়ম পাড়া, যোসেফ পাড়া ও বাসস্টেশন এলাকায় চলে এ পাহাড় কাটার ধ্বংসযজ্ঞ।

স্থানীয়রা জানায়, ‘করব ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখব মরুময়তা, অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ রক্ষার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে থানচি উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শৈক্যচিং মারমা ও উপজেলা আ.লীগের তথ্য-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সচীন চন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে থানচি বাসস্টেশন, যোসেফ পাড়া ও মরিয়ম পাড়া এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিনদুপুরে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে। এর আগেও উপজেলা সদরে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করার অপরাধে নামমাত্র জরিমানা করেছিল প্রশাসন।এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব পরিবেশ ধ্বংসকারী চক্র। এছাড়া এসব অনিয়ম সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন জানলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শৈক্যচিং মারমা পাহাড় কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম নির্মাণে মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে। আশপাশে ভরাটের জন্য মাটি না পাওয়ায় মালিকের সম্মতিতে পাহাড় কেটে মাটিগুলো ওই স্টেডিয়ামে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পাহাড় কাটার অনুমতি পেতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সচিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, সাধু যোসেফ পাড়া হতে মরিয়ম পাড়া রাস্তাটি করার জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়ার আগে পাহাড় কাটা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সুদুত্তর দিতে পারেননি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন জানান, ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। আবেদনগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আবেদন করলেও অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত পাহাড় কাটার কোনো বৈধতা নেই। অবৈধ উপায়ে এসব পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পাহাড় কাটার অপরাধে মরিয়ম পাড়ার নিবাসী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সুরেন্দ্র ত্রিপুরার বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। থানচি ইউএনও মোহাম্মদ মামুন জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশ দিবসেও যুবলীগ নেতাদের পাহাড় কাটার মহোৎসব

আপডেট সময়: ০২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

বান্দরবানের থানচিতে পরিবেশ দিবসেও চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। প্রতি বছর এ দিনে আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। এই দিনে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে সারা বিশ্বে নানা প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রচার চালিয়ে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। সেখানে বান্দরবানের থানচিতে সরকারি উন্নয়নের নামে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে যুবলীগ নেতারা বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ জুন) থানচি উপজেলা সদরের মরিয়ম পাড়া, যোসেফ পাড়া ও বাসস্টেশন এলাকায় চলে এ পাহাড় কাটার ধ্বংসযজ্ঞ।

স্থানীয়রা জানায়, ‘করব ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখব মরুময়তা, অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ রক্ষার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে থানচি উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শৈক্যচিং মারমা ও উপজেলা আ.লীগের তথ্য-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সচীন চন্দ্র ত্রিপুরার নেতৃত্বে থানচি বাসস্টেশন, যোসেফ পাড়া ও মরিয়ম পাড়া এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিনদুপুরে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে। এর আগেও উপজেলা সদরে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করার অপরাধে নামমাত্র জরিমানা করেছিল প্রশাসন।এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব পরিবেশ ধ্বংসকারী চক্র। এছাড়া এসব অনিয়ম সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন জানলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শৈক্যচিং মারমা পাহাড় কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম নির্মাণে মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে। আশপাশে ভরাটের জন্য মাটি না পাওয়ায় মালিকের সম্মতিতে পাহাড় কেটে মাটিগুলো ওই স্টেডিয়ামে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পাহাড় কাটার অনুমতি পেতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সচিন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, সাধু যোসেফ পাড়া হতে মরিয়ম পাড়া রাস্তাটি করার জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়ার আগে পাহাড় কাটা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সুদুত্তর দিতে পারেননি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন জানান, ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। আবেদনগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আবেদন করলেও অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত পাহাড় কাটার কোনো বৈধতা নেই। অবৈধ উপায়ে এসব পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পাহাড় কাটার অপরাধে মরিয়ম পাড়ার নিবাসী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সুরেন্দ্র ত্রিপুরার বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। থানচি ইউএনও মোহাম্মদ মামুন জানান, পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।