আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

রোগাক্রান্ত মৃতপ্রায় গরু জবাই : ১৬০ কেজি মাংস ধ্বংস, দোকান সিলগালা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
  • ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গুটিবসন্তে আক্রান্ত মৃতপ্রায় গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির সময় তা জব্দ করে ধ্বংস করে ফেলেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১ জুন) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের জিরণগাছা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওই মাংস জব্দ করে কেরোসিন মিশিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি বিতর্কিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালার নির্দেশ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী ফারুক হোসেন (৪০) জানান, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের সহিল উদ্দীন ওরফে সলু কসাইয়ের ছেলে মোজারুল ইসলাম (৩৬), কুশলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম সোহরাব সরদারের ছেলে মিলন (৩৪) ও একই গ্রামের মরহুম দেলবার সরদারের ছেলে মুনসুর আলী (৫৫) দীর্ঘদিন যাবত জিরণগাছা বাজারে মাংস বিক্রি করে আসছেন। শনিবার ভোর ৫ টার দিকে তারা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বেজুয়া গ্রামের হজরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলামের নিকট থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত একটা মৃতপ্রায় গরু ৯ হাজার টাকায় কিনে ওই গোয়ালে জবাই করে। ভোরে সেই মাংস জিরণগাছা বাজারে এনে দেশি এড়ে গরুর মাংস হিসেবে প্রচার দিয়ে বিক্রি করতে থাকে তারা।

এদিকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড (বেজুয়) এর মেম্বার জাহিদ আলম অসুস্থ গরু জবাই করে প্রতারণার মাধ্যমে জিরণগাছা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানতে পারেন। একপর্যায়ে বিষয়টি আরও জানাজানি হলে ক্রেতা ও জনসাধারণের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জনতা মাংসের দোকান ঘেরাও করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এসময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় তিন মাংস ব্যবসায়ী।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাহার আলী। তিনি প্রায় ১৬০ কেজি মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় মাংসের দোকান সিলগালা করার পাশাপাশি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় মাংস বিক্রিতে ব্যবহৃত পাকা চাতাল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাহার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

রোগাক্রান্ত মৃতপ্রায় গরু জবাই : ১৬০ কেজি মাংস ধ্বংস, দোকান সিলগালা

আপডেট সময়: ০৯:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গুটিবসন্তে আক্রান্ত মৃতপ্রায় গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির সময় তা জব্দ করে ধ্বংস করে ফেলেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১ জুন) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের জিরণগাছা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওই মাংস জব্দ করে কেরোসিন মিশিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার পাশাপাশি বিতর্কিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালার নির্দেশ দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী ফারুক হোসেন (৪০) জানান, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের সহিল উদ্দীন ওরফে সলু কসাইয়ের ছেলে মোজারুল ইসলাম (৩৬), কুশলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম সোহরাব সরদারের ছেলে মিলন (৩৪) ও একই গ্রামের মরহুম দেলবার সরদারের ছেলে মুনসুর আলী (৫৫) দীর্ঘদিন যাবত জিরণগাছা বাজারে মাংস বিক্রি করে আসছেন। শনিবার ভোর ৫ টার দিকে তারা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বেজুয়া গ্রামের হজরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলামের নিকট থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত একটা মৃতপ্রায় গরু ৯ হাজার টাকায় কিনে ওই গোয়ালে জবাই করে। ভোরে সেই মাংস জিরণগাছা বাজারে এনে দেশি এড়ে গরুর মাংস হিসেবে প্রচার দিয়ে বিক্রি করতে থাকে তারা।

এদিকে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড (বেজুয়) এর মেম্বার জাহিদ আলম অসুস্থ গরু জবাই করে প্রতারণার মাধ্যমে জিরণগাছা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানতে পারেন। একপর্যায়ে বিষয়টি আরও জানাজানি হলে ক্রেতা ও জনসাধারণের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জনতা মাংসের দোকান ঘেরাও করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এসময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় তিন মাংস ব্যবসায়ী।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাহার আলী। তিনি প্রায় ১৬০ কেজি মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় মাংসের দোকান সিলগালা করার পাশাপাশি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় মাংস বিক্রিতে ব্যবহৃত পাকা চাতাল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাহার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।