আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

দেবহাটায় দুটি আইসক্রিম কারখানা বন্ধ: জরিমানা

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৯:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে আইসক্রিমের দিকে ছুটে যায় মানুষ—বিশেষ করে শিশুরা। কিন্তু সেই প্রিয় খাবারই যখন পরিণত হয় নীরব বিষে, তখন তা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, ভয়াবহ এক সামাজিক অপরাধ।

ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম তৈরির দায়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকার দুটি কারখানায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে কারখানা দুটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে র‌্যাব-৬ এর সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের পর এসব তথ্য জানা যায়।

দেবহাটা উপজেলার উত্তর সখিপুর এলাকার শিলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি এবং পাশের মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, আইসক্রিমে মেশানো হচ্ছিল ক্ষতিকারক রাসায়নিক, যা শিশুদের কোমল শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ও ৪২ ধারায় শিলা আইসক্রিমের মালিক সুজিত বিশ্বাস এবং মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির পরিচালক আব্দুল খালেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বার্থে উভয় কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, শিশুদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত এমন খাবার গ্রহণে শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমে আইসক্রিম শিশুদের কাছে শুধু খাবার নয়, আনন্দের একটি অংশ। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে বিষ, তাহলে তা তাদের মনে ভীতি, অবিশ্বাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয় আতঙ্ক—কোন খাবার নিরাপদ আর কোনটি নয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে নির্মম খেলা করছে। তারা জানে তাদের পণ্যের প্রধান ভোক্তা শিশুরা—তবুও তারা থামছে না। এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের জন্য খোলা বা অজানা উৎসের আইসক্রিম না কিনে মানসম্মত ও অনুমোদিত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদেরও সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নিরাপদ খাবার বেছে নিতে শেখে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

দেবহাটায় দুটি আইসক্রিম কারখানা বন্ধ: জরিমানা

আপডেট সময়: ০৯:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে আইসক্রিমের দিকে ছুটে যায় মানুষ—বিশেষ করে শিশুরা। কিন্তু সেই প্রিয় খাবারই যখন পরিণত হয় নীরব বিষে, তখন তা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, ভয়াবহ এক সামাজিক অপরাধ।

ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম তৈরির দায়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকার দুটি কারখানায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে কারখানা দুটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে র‌্যাব-৬ এর সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের পর এসব তথ্য জানা যায়।

দেবহাটা উপজেলার উত্তর সখিপুর এলাকার শিলা আইসক্রিম ফ্যাক্টরি এবং পাশের মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, আইসক্রিমে মেশানো হচ্ছিল ক্ষতিকারক রাসায়নিক, যা শিশুদের কোমল শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ও ৪২ ধারায় শিলা আইসক্রিমের মালিক সুজিত বিশ্বাস এবং মদিনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির পরিচালক আব্দুল খালেককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বার্থে উভয় কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, শিশুদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত এমন খাবার গ্রহণে শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমে আইসক্রিম শিশুদের কাছে শুধু খাবার নয়, আনন্দের একটি অংশ। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে বিষ, তাহলে তা তাদের মনে ভীতি, অবিশ্বাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয় আতঙ্ক—কোন খাবার নিরাপদ আর কোনটি নয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে নির্মম খেলা করছে। তারা জানে তাদের পণ্যের প্রধান ভোক্তা শিশুরা—তবুও তারা থামছে না। এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের জন্য খোলা বা অজানা উৎসের আইসক্রিম না কিনে মানসম্মত ও অনুমোদিত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদেরও সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নিরাপদ খাবার বেছে নিতে শেখে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।