লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই যুবকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২১)।
নিহত শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর একমাত্র ছেলে এবং নাহিদুল ইসলাম নাহিদ আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই বাড়িতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মাসখানেক আগে তারা লেবাননে পাড়ি জমান। কিন্তু পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আগেই এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। নিহত শফিকুল ইসলামের দুই মেয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, শফিকুল ইসলাম গত রমজান মাসে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যান। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। অন্যদিকে নাহিদুল ইসলাম ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরার আশায়। তার বাবা-মাও ঋণের চাপে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
নিহত শফিকুল ইসলামের মামা নজির উদ্দিন বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। পাশাপাশি সরকারের কাছে অনুরোধ, তাদের ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করা হোক।”
ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “পরিবার দুটি অত্যন্ত অসহায়। সন্তান হারিয়ে তারা মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত।” এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামা নন্দ কুন্ডু নাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
উভয় ইউএনও জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আরও জানান, নিহত দুই পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থাকবে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ঋণ সংক্রান্ত বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
আজকের বাণী 






















