আজ রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার Logo বাংলাদেশের পেস ইতিহাসে হাসানের হ্যাটট্রিক
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

খোলপাটুয়া-চুনা নদীতে কুমিরের বিচরণ: জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে চিংড়ি পোনা ধরছেন জেলেরা

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০১:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপাটুয়া ও চুনা নদীতে সম্প্রতি কুমিরের বিচরণ দেখা গেলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে চিংড়ি পোনা ও অন্যান্য মাছের পোনা শিকার করছেন স্থানীয় জেলেরা। এতে একদিকে কুমিরের আক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুর এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালগুলোতে বিভিন্ন সময় কুমিরের দেখা মিলছে। বিশেষ করে খোলপাটুয়া ও চুনা নদীর বিভিন্ন অংশে জেলেরা জাল ফেলতে গিয়ে কুমিরের উপস্থিতি দেখতে পান। কখনো কখনো নদীতে জাল টানার সময় কুমির খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।
বুড়িগোয়ালিনী-নীলডুমুর এলাকার জেলে জেহের আলী ও বক্স সরদার বলেন, নদীতে জাল টানার সময় মাঝেমধ্যেই কুমির চোখে পড়ে। কুমির দেখলে ভয় লাগে এবং জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু মাছের পোনা ধরে বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। নদীতে না নামলে খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে নদীতে নেমে জাল টেনে পোনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীতে চিংড়ির পোনা পাওয়া যায়। এসব পোনা সংগ্রহ করেই অনেক পরিবার তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে কুমিরের বিচরণ সম্পর্কে জানার পরও অনেকে নদীতে নামছেন। এতে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালগুলোতে কুমিরের প্রজনন ও বিস্তার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে কুমির সংগ্রহ করে সুন্দরবনের উপযোগী এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব নদী ও খালে কুমিরের বিচরণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কুমিরের উপস্থিতি রয়েছে এমন নদী-খালে পানিতে নেমে মাছ বা চিংড়ির পোনা শিকার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে জাল টানার সময় পানিতে অবস্থান না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং কুমির দেখা গেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার জন্য জেলেদের আহ্বান জানানো হয়েছে। বন কর্মকর্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। কুমির সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী এবং এর প্রজনন ও সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই জেলেদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কুমিরের বিচরণক্ষেত্র সম্পর্কে স্থানীয়দের নিয়মিত সতর্ক করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সতর্ক করলেই হবে না; নদীতে পোনা ধরার ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাহলে কুমিরের বিচরণ এলাকায় জীবন ঝুঁকিতে ফেলে নদীতে নামার প্রবণতা কমবে। সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কুমিরের নিরাপদ বিচরণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী

খোলপাটুয়া-চুনা নদীতে কুমিরের বিচরণ: জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে চিংড়ি পোনা ধরছেন জেলেরা

আপডেট সময়: ০১:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপাটুয়া ও চুনা নদীতে সম্প্রতি কুমিরের বিচরণ দেখা গেলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে চিংড়ি পোনা ও অন্যান্য মাছের পোনা শিকার করছেন স্থানীয় জেলেরা। এতে একদিকে কুমিরের আক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুর এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালগুলোতে বিভিন্ন সময় কুমিরের দেখা মিলছে। বিশেষ করে খোলপাটুয়া ও চুনা নদীর বিভিন্ন অংশে জেলেরা জাল ফেলতে গিয়ে কুমিরের উপস্থিতি দেখতে পান। কখনো কখনো নদীতে জাল টানার সময় কুমির খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।
বুড়িগোয়ালিনী-নীলডুমুর এলাকার জেলে জেহের আলী ও বক্স সরদার বলেন, নদীতে জাল টানার সময় মাঝেমধ্যেই কুমির চোখে পড়ে। কুমির দেখলে ভয় লাগে এবং জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু মাছের পোনা ধরে বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। নদীতে না নামলে খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে নদীতে নেমে জাল টেনে পোনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীতে চিংড়ির পোনা পাওয়া যায়। এসব পোনা সংগ্রহ করেই অনেক পরিবার তাদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে কুমিরের বিচরণ সম্পর্কে জানার পরও অনেকে নদীতে নামছেন। এতে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালগুলোতে কুমিরের প্রজনন ও বিস্তার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে কুমির সংগ্রহ করে সুন্দরবনের উপযোগী এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব নদী ও খালে কুমিরের বিচরণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কুমিরের উপস্থিতি রয়েছে এমন নদী-খালে পানিতে নেমে মাছ বা চিংড়ির পোনা শিকার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে জাল টানার সময় পানিতে অবস্থান না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং কুমির দেখা গেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার জন্য জেলেদের আহ্বান জানানো হয়েছে। বন কর্মকর্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। কুমির সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী এবং এর প্রজনন ও সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই জেলেদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কুমিরের বিচরণক্ষেত্র সম্পর্কে স্থানীয়দের নিয়মিত সতর্ক করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সতর্ক করলেই হবে না; নদীতে পোনা ধরার ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাহলে কুমিরের বিচরণ এলাকায় জীবন ঝুঁকিতে ফেলে নদীতে নামার প্রবণতা কমবে। সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কুমিরের নিরাপদ বিচরণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।