সাতক্ষীরায় কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হতো ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়, বর্তমানে তা বেড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, গত রমজান মাসেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৭০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে কোনো কারণ বা ঘোষণা ছাড়াই দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরোপ করা হয়েছে বিতর্কিত শর্ত প্রতি কেজি মাংসের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ২৫০ গ্রাম হাড় নিতে হচ্ছে। এতে ক্রেতারা নির্ধারিত দামে পুরোপুরি মাংস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। একাধিক ক্রেতা জানান, “কোনো ধরনের ঘোষণা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই এভাবে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। উপরন্তু জোর করে হাড় দেওয়া হচ্ছে, যা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।” আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কসাই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রুগ্ন ও মৃত গরু-ছাগল জবাই করে বাজারে বিক্রি করছে। ভোর রাতে জবাই করা পশুর মাংস সারাদিন বিক্রি করা হলেও তা তদারকির কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রির বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবির বলেন, “মাংসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে- এ বিষয়ে আমার জানা নেই। জেলায় সরকারি কোনো কসাইখানা না থাকায় পশু জবাইয়ের আগে রুগ্ন বা অসুস্থ কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “জবাইয়ের পর মাংস সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা ভালো থাকে। এরপর বাইরে রাখলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সারাদিন খোলা অবস্থায় মাংস বিক্রি করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।” ভুক্তভোগীরা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার, নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি নিশ্চিতকরণ এবং অসাধু কসাইদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
সাতক্ষীরায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি, ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রেতারা
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ১১:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ























