আজ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে নারীরা Logo পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২ Logo পোল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে নিহত ১, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ২ Logo কলারোয়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন Logo আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ আসামি গ্রেপ্তার Logo ধুলিহরে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে টাকা-অলঙ্কার লুট Logo ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সর্বাত্মক করার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের Logo অসচ্ছল-মেধাবী ৫০ শিক্ষার্থী পেল স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ Logo দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও খাতা বিতরণ Logo সাতক্ষীরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি টিটু, সম্পাদক মামুন
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর কারাগারে

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:২৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে ওবায়দুরের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে ওবায়দুরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা ইসলামকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে, মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিয়ের পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর আগে তাঁর লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। তবে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার অর্থনৈতিক সহায়তা ও মদদে ওবায়দুরকে ব্যবহার করে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এসব অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। মামলার তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে নারীরা

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর কারাগারে

আপডেট সময়: ১০:২৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে ওবায়দুরের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে ওবায়দুরকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা ইসলামকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে, মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিয়ের পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর আগে তাঁর লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। তবে গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং মরিয়ম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার অর্থনৈতিক সহায়তা ও মদদে ওবায়দুরকে ব্যবহার করে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুৎসা রটানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এসব অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। মামলার তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে।