ঢাকা প্রতিনিধি : জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে পৌঁছায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন গাড়ি থেকে নামিয়ে জানাজাস্থলে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়। জানাজার সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন মরহুমার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
জানাজা শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সংক্ষেপে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন পরিপাটি ও রুচিশীল। ফুলের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল, যার প্রতিফলন ঘটত তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও। নজরুল ইসলাম খান জানান, ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে বিদেশে অবস্থানকালে ইন্তেকাল করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দল যখন বিপর্যস্ত, তখন ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ভাইস চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে পরবর্তীতে দলের কাউন্সিলে নির্বাচিত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন। তাঁর দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছরই তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। এ কারণেই তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “খালেদা জিয়াকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কেউ আপস করাতে পারেনি। তিনি বলতেন—বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। জনগণের ভালোবাসায় তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।”
এরপর লাখো মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমার মা জীবিত থাকাকালে যদি কারও কাছে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আমি তা পরিশোধ করব। তাঁর কথায় বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি মরহুমার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”
বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজা শুরু হয়। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হয়, যেখানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।
রিপোর্টার 













