ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিস্থিতি, একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার প্রতিবাদ এবং সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মহানগরীর ডাকবাংলো মোড়ে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের খুলনা শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম খুলনার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যাংকের গ্রাহক হারুন অর রশীদ, কাজী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান, রবিউল আলম বাদল, মো. ইমামুল শেখ, হায়দার আলী নিরুসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের হাতে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পর থেকেই ব্যাংকটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন তারা। বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংকটির পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিলেও বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র ব্যাংক প্রাঙ্গণে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অবিলম্বে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার জায়গায় আঘাত হানার অর্থ পুরো দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা। ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠন; এস আলম গ্রুপের সব ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বাতিল; এবং বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সমাবেশ থেকে বক্তারা কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে বলেন, অবিলম্বে উত্থাপিত সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে সাধারণ গ্রাহক ও অংশীজনদের নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষ যেভাবে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, প্রয়োজনে ব্যাংক রক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বার্থে আন্দোলন আরও কঠোর করারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আজকের বাণী 


























