আজ বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও খাতা বিতরণ Logo সাতক্ষীরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি টিটু, সম্পাদক মামুন Logo সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘ভয়েস টু ভেঞ্চার ব্রিজ’ Logo তায়কোয়ানডোতে সাতক্ষীরার চার খেলোয়াড়ের চার পদক Logo দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা-লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ Logo দেবহাটায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত Logo সাতক্ষীরায় বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন শহিদুল ইসলাম মুকুল Logo রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে’ Logo ২৮তম জাতীয় লিগের পর্দা উঠল, দীর্ঘ বিরতির পর খুলনায় ফিরল ক্রিকেটের প্রাণচাঞ্চল্য
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

চীনের হারানো পোশাক বাজারের বড় অংশ যাচ্ছে ভিয়েতনামে, পিছিয়ে বাংলাদেশ

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৯:৩৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটি প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার হারিয়েছে। তবে চীনের হারানো সেই বাজারের বড় অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ শতাংশ কম।

এই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিও কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে চীনের রপ্তানি কমেছে আরও বড় পরিসরে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথমার্ধে দেশটির রপ্তানি ছিল ৫৭৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে চীনের রপ্তানি কমেছে ২১৬ কোটি ডলার।

চীনের বাজার যাচ্ছে প্রতিযোগীদের হাতে

চীনের হারানো বাজারের বড় অংশ দখলে নিয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে ৭৮৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়া ২১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। দেশ দুটির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ১২ শতাংশ।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন থেকে সরে যাওয়া ক্রয়াদেশের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড পোশাকের। এই খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে দ্রুত সরবরাহনির্ভর ফাস্ট ফ্যাশনের বাজারেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

সক্ষমতা বাড়াতে হবে নন-কটন পোশাকে

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, নন-কটন পোশাকে বাংলাদেশের দক্ষতা কম থাকায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ হতে পারছে না দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলক কম সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারে, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সামনে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, বছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি কমলেও ভবিষ্যতে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম থেকে কিছু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে আসছে বলেও জানান তিনি।

শুল্ক সুবিধায় আশার আলো

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নন-কটন পোশাক খাতে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সংকট সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। উদ্যোক্তাদের আশা, নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে দেশের তৈরি পোশাক খাত।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও খাতা বিতরণ

চীনের হারানো পোশাক বাজারের বড় অংশ যাচ্ছে ভিয়েতনামে, পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময়: ০৯:৩৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটি প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার হারিয়েছে। তবে চীনের হারানো সেই বাজারের বড় অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ শতাংশ কম।

এই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিও কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে চীনের রপ্তানি কমেছে আরও বড় পরিসরে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথমার্ধে দেশটির রপ্তানি ছিল ৫৭৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে চীনের রপ্তানি কমেছে ২১৬ কোটি ডলার।

চীনের বাজার যাচ্ছে প্রতিযোগীদের হাতে

চীনের হারানো বাজারের বড় অংশ দখলে নিয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে ৭৮৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়া ২১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। দেশ দুটির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ১২ শতাংশ।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন থেকে সরে যাওয়া ক্রয়াদেশের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড পোশাকের। এই খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে দ্রুত সরবরাহনির্ভর ফাস্ট ফ্যাশনের বাজারেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

সক্ষমতা বাড়াতে হবে নন-কটন পোশাকে

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, নন-কটন পোশাকে বাংলাদেশের দক্ষতা কম থাকায় ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ হতে পারছে না দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলক কম সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারে, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সামনে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, বছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি কমলেও ভবিষ্যতে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম থেকে কিছু ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে আসছে বলেও জানান তিনি।

শুল্ক সুবিধায় আশার আলো

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নন-কটন পোশাক খাতে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সংকট সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। উদ্যোক্তাদের আশা, নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে দেশের তৈরি পোশাক খাত।