আজ সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শ্যামনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম Logo জীবিকার সংকটে সুন্দরবনের হাজারো বনজীবী Logo হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ Logo জ্বালানি তেলের দাম বাধ্য হয়ে বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী Logo সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ৬ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি Logo পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান: নিউইয়র্ক টাইমস Logo এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি: চায়নিজ তাইপেকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম জয় Logo শ্যামনগরে বিজিবি সদস্যের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট Logo হজ পালন করতে গিয়ে ৪১ বাংলাদেশির মৃত্যু Logo ঈদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

কলারোয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে শত শত আমবাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়ায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বাগানে ডালপালা ভেঙে যায় এবং গাছ থেকে আম ঝরে পড়ে। সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা। চলতি মৌসুমে ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চাষিরা আশাবাদী ছিলেন। তবে ঈদুল আজহার পরপরই কালবৈশাখির আঘাতে সেই আশা ধাক্কা খেয়েছে।
কলারোয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকার আমচাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর প্রায় ৩৫টি আমবাগান রয়েছে। ঈদের কারণে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঝড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম ঝরে পড়েছে। তিনি বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঝড়ে কয়েক লাখ টাকার আম নষ্ট হয়েছে। এখন খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।” একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন উপজেলার আরও অনেক চাষি। তাঁদের মতে, ঋণ ও ধারদেনা করে বাগান পরিচালনা করা অনেক চাষি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
কলারোয়া বড়বাজারের আম ব্যবসায়ী ও আড়তদার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঈদের আগে ও পরে আমের বাজার জমে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসছিলেন। কিন্তু ঝড়ের কারণে সরবরাহ ও ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক বাগানে এখনো মাটিতে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার আম। চাষিরা সেগুলো সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ আম বাজারজাতের উপযোগী না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কলারোয়ার আমচাষিরা। তাঁদের দাবি, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়া।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম

কলারোয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময়: ১০:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে শত শত আমবাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়ায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বাগানে ডালপালা ভেঙে যায় এবং গাছ থেকে আম ঝরে পড়ে। সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা। চলতি মৌসুমে ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চাষিরা আশাবাদী ছিলেন। তবে ঈদুল আজহার পরপরই কালবৈশাখির আঘাতে সেই আশা ধাক্কা খেয়েছে।
কলারোয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকার আমচাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর প্রায় ৩৫টি আমবাগান রয়েছে। ঈদের কারণে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঝড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম ঝরে পড়েছে। তিনি বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঝড়ে কয়েক লাখ টাকার আম নষ্ট হয়েছে। এখন খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।” একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন উপজেলার আরও অনেক চাষি। তাঁদের মতে, ঋণ ও ধারদেনা করে বাগান পরিচালনা করা অনেক চাষি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
কলারোয়া বড়বাজারের আম ব্যবসায়ী ও আড়তদার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঈদের আগে ও পরে আমের বাজার জমে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসছিলেন। কিন্তু ঝড়ের কারণে সরবরাহ ও ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক বাগানে এখনো মাটিতে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার আম। চাষিরা সেগুলো সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ আম বাজারজাতের উপযোগী না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কলারোয়ার আমচাষিরা। তাঁদের দাবি, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়া।