কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে শত শত আমবাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়ায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বাগানে ডালপালা ভেঙে যায় এবং গাছ থেকে আম ঝরে পড়ে। সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা। চলতি মৌসুমে ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চাষিরা আশাবাদী ছিলেন। তবে ঈদুল আজহার পরপরই কালবৈশাখির আঘাতে সেই আশা ধাক্কা খেয়েছে।
কলারোয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকার আমচাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর প্রায় ৩৫টি আমবাগান রয়েছে। ঈদের কারণে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঝড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম ঝরে পড়েছে। তিনি বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঝড়ে কয়েক লাখ টাকার আম নষ্ট হয়েছে। এখন খরচ তুলতেই কষ্ট হবে।” একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন উপজেলার আরও অনেক চাষি। তাঁদের মতে, ঋণ ও ধারদেনা করে বাগান পরিচালনা করা অনেক চাষি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
কলারোয়া বড়বাজারের আম ব্যবসায়ী ও আড়তদার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঈদের আগে ও পরে আমের বাজার জমে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসছিলেন। কিন্তু ঝড়ের কারণে সরবরাহ ও ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক বাগানে এখনো মাটিতে পড়ে রয়েছে হাজার হাজার আম। চাষিরা সেগুলো সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ আম বাজারজাতের উপযোগী না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কালবৈশাখি ঝড়ে ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কলারোয়ার আমচাষিরা। তাঁদের দাবি, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়া।
আজকের বাণী 













