আজ রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে আমের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুব ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমের মানও ভালো রয়েছে। আমরা আশা করছি, বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।

তিনি আরও বলেন, আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপরও আমরা আশায় থাকি মৌসুমে ভালো দাম পাব। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে।

আরেক আমচাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা যেন ন্যায্যমূল্যে আম কিনে। কারণ একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে দাম কমে গেলে কৃষক টিকতে পারবে না।

তিনি বলেন, একটা আম বাজারে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে, পরিচর্যা, পাহারা সব মিলিয়ে বড় বিনিয়োগ। এখন যদি দাম দুই হাজার টাকার নিচে নেমে যায়, বিশেষ করে হিমসাগরের ক্ষেত্রে, তাহলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তালা উপজেলার আরেক চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশের মধ্যে সবার আগে বাজারে আসে, এটাই আমাদের বড় সুবিধা। শুরুতে দাম ভালো পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তাহলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুম সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরার আমে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

আপডেট সময়: ১১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে আমের ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এবার আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম পাড়ার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

সদর উপজেলার আমচাষি আবু সাইদ বলেন, সারা বছর আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এবারের আবহাওয়া আমের জন্য খুব ভালো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমের মানও ভালো রয়েছে। আমরা আশা করছি, বাজারে দাম ভালো থাকলে লোকসান হবে না।

তিনি আরও বলেন, আম চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিক সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি বাগান পরিচর্যা করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তারপরও আমরা আশায় থাকি মৌসুমে ভালো দাম পাব। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে।

আরেক আমচাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা যেন ন্যায্যমূল্যে আম কিনে। কারণ একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে দাম কমে গেলে কৃষক টিকতে পারবে না।

তিনি বলেন, একটা আম বাজারে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে, পরিচর্যা, পাহারা সব মিলিয়ে বড় বিনিয়োগ। এখন যদি দাম দুই হাজার টাকার নিচে নেমে যায়, বিশেষ করে হিমসাগরের ক্ষেত্রে, তাহলে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তালা উপজেলার আরেক চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার আম দেশের মধ্যে সবার আগে বাজারে আসে, এটাই আমাদের বড় সুবিধা। শুরুতে দাম ভালো পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগানে আসতে শুরু করেছেন। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকে, তাহলে এবারের মৌসুম চাষিদের জন্য ভালো যাবে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সচেতন পরিচর্যার কারণে ফলন বেড়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুম সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।