শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটার চাপ এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি চুনকুড়ি নদীর তীরে সিংহড়তলী এলাকায় কয়েক দশ মিটারজুড়ে ফাটল দেখা দেয় এবং পরে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। একই সময়ে খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানেও ক্ষয় ও দুর্বলতা দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মে মাস থেকে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ায় ঝুঁকির বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে ‘সিডর’, ‘আইলা’, ‘আম্পান’ ও ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাবুরা ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল আলম জানান, ২০০৯ সালের আইলা ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয় এবং তার ওষুধের ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য বিবি পানিতে ডুবে মারা যান। কামাল শেখ জানান, জলোচ্ছ্বাসে তার গবাদিপশু ভেসে যায়। এছাড়া সোরা এলাকায় বাঁধ ভেঙে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার সময় প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার অনেকাংশ এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং ওই দুর্যোগে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও কিছু এলাকায় তা এখনো অসম্পূর্ণ। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ৪ কিলোমিটার বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সুমন বলেন, জরুরি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে।
এদিকে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১৫ পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রায় ১০২০ দশমিক ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৫টি রেগুলেটার প্রতিস্থাপন এবং ৯টি ইনলেট নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪৪১ হেক্টর এলাকা সুরক্ষা পাবে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ১০:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- ২৫ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ


























