আজ বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর Logo সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ও টিআইবি প্রধানের বৈঠক Logo সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ জুন Logo ‘১১৩ বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন?’-বিজয়কে গভর্নরের প্রশ্ন Logo ‘পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে’ Logo সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য আটক Logo সরকার এমন একটি প্রশাসন চায়, যেখানে মানুষ হয়রানি মুক্ত সেবা পাবে: প্রধানমন্ত্রী Logo বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে ২০–২১ মে গণশুনানি Logo গেরুয়া বুলডোজারে ত্রাসের রাজত্ব পশ্চিমবঙ্গে Logo ন্যায্য দাম না পেয়ে সাতক্ষীরায় কমছে হলুদের আবাদ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরার লাখ শিশুর জীবন হুমকিতে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১০:২৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো শিশুর শৈশব আজ ঝুঁকির মুখে। অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিশুরা আগের তুলনায় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অভাবের তাড়নায় ৭–১৫ বছর বয়সী অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমে যুক্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পরিবারগুলোকে দারিদ্র্য ও স্থানচ্যুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি—এই তিন মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউনিসেফের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। এর বড় অংশ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নোনাপানির অনুপ্রবেশ এবং ঘন ঘন দুর্যোগ পরিবারগুলোকে আরও দরিদ্র করে তুলছে, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে।

সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে লবণাক্ত পানির প্রভাবে শিশুরা চর্মরোগ, রক্তশূন্যতা, আমাশয়, পুষ্টিহীনতাসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য জোগাতে পারছে না। ফলে শিশুদের দৈনিক ক্যালরি চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, যা সরাসরি অপুষ্টির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উপকূলের বহু গ্রাম প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে, যা মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা চলতি জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং দুর্নীতি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে শিশুদের এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম ও উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সাতক্ষীরার লাখ শিশুর জীবন হুমকিতে

আপডেট সময়: ১০:২৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো শিশুর শৈশব আজ ঝুঁকির মুখে। অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিশুরা আগের তুলনায় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অভাবের তাড়নায় ৭–১৫ বছর বয়সী অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমে যুক্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পরিবারগুলোকে দারিদ্র্য ও স্থানচ্যুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি—এই তিন মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউনিসেফের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। এর বড় অংশ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নোনাপানির অনুপ্রবেশ এবং ঘন ঘন দুর্যোগ পরিবারগুলোকে আরও দরিদ্র করে তুলছে, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে।

সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নে লবণাক্ত পানির প্রভাবে শিশুরা চর্মরোগ, রক্তশূন্যতা, আমাশয়, পুষ্টিহীনতাসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য জোগাতে পারছে না। ফলে শিশুদের দৈনিক ক্যালরি চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, যা সরাসরি অপুষ্টির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

উপকূলের বহু গ্রাম প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে, যা মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা চলতি জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং দুর্নীতি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে শিশুদের এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।