সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও মানবিক বন্ধন অটুট—এই কথা প্রমাণ করল সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে এক বিশেষ ঘটনা। ভারতের বাসিন্দা জরিনা খাতুন (৯৮) মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে—শিরিনা খাতুন ও আলেয়া খাতুন—শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ পেলেন।
জানা যায়, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট থানার ঘোজাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় ইন্তেকাল করেন। মায়ের জানাজা বা দাফনে সীমান্ত জটিলতার কারণে অংশ নেওয়া সম্ভব না হলেও উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানবিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরার ভোমরা আইসিপি চেকপোস্টে নির্ধারিত স্থানে দুই বোন তাদের মায়ের মুখ দেখেন। ভারতীয় বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার অনুজ কুমার এবং বাংলাদেশের বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার অহিদুজ্জামান নেতৃত্বে উভয় বাহিনী উপস্থিত ছিলেন।
স্বল্প সময়ের সাক্ষাতের এই মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার। উপস্থিতরা এটিকে দুই দেশের মানবিক সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। শিরিনা খাতুন ও আলেয়া খাতুন বৈবাহিকভাবে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ভাড়ুখালী গ্রামের বাসিন্দা হলেও তাদের মা ভারতের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিল, সীমান্ত পার হয়ে কখনও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা যায় না।
রিপোর্টার 




















