সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। নিহতের পিতা প্রাণনাথ দাসের বরাতে সাতক্ষীরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহেল রানা জানান, রোববার রাতে পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি লক্ষ্য করেন, মেয়ের কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ—যা তার স্বাভাবিক অভ্যাস ছিল না। সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে গিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েটি ঝুলছে। পরে তাকে নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এসআই সোহেল রানা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। নিহতের আত্মীয় সুমন মুখার্জী বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী ছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিল।
এমন সম্ভাবনাময় জীবনের আকস্মিক অবসানে পরিবার ও স্বজনরা গভীরভাবে শোকাহত। মানবাধিকার ও নারী অধিকারকর্মীরাও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জোসনা দত্ত বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় দ্রুত আত্মহত্যা বলে ধরে নেওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই প্রতিটি ঘটনার গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। স্থানীয়রা জানান, মেয়েটি শান্ত-স্বভাবের ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিপোর্টার 













