আজ শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন Logo দেবহাটায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে বন্যাঢ্য র ্যালী ও আলোচনা সভা Logo সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন Logo খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে মোস্তফা সরোয়ার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক Logo আশাশুনিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা Logo আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু Logo তিন দিন পর ফের কর্মচঞ্চল ভোমরা স্থলবন্দর Logo বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন Logo সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য কারিগরি দক্ষতা মেলা Logo খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধে সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

আয়বহির্ভূত সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ: শ্যামনগর এসিল্যান্ড রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে তদন্ত চায় এলাকাবাসী

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা মো. জাবেদ আলম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন ২০২১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, শ্যামনগর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবনটি পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদ হোসাইনের নামে ও বেনামে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও সম্পত্তি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, শফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে পৌরসভা থেকে এ জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্ল্যান পাস নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তাঁর পিতা প্রকৃতপক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন বলেন, সফিপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন (পিতা ইসহাক) নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে আমি চিনি না।” একই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আহাদ আলী বলেন, “এখানে বাইরে থেকে এসে অনেকেই বসবাস করেন। এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাশেদ হোসাইন নিজ পৈত্রিক সম্পত্তির পাশাপাশি এলাকার এক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অভিযোগকারী মো. জাবেদ আলম বলেন, রাশেদ হোসাইনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে আমাকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শ্যামনগর ভূমি অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, টাকা ছাড়া নামজারি, খারিজ কিংবা মিসকেস-সংক্রান্ত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ না হওয়া, নথিপত্র গায়েব হওয়া এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি অন্যের নামে নামজারি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, বাড়িটি পারিবারিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে পরিবারের সবার অর্থ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন

আয়বহির্ভূত সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ: শ্যামনগর এসিল্যান্ড রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে তদন্ত চায় এলাকাবাসী

আপডেট সময়: ১১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা মো. জাবেদ আলম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন ২০২১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাধারণ জমির মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগকারীর দাবি, শ্যামনগর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবনটি পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদ হোসাইনের নামে ও বেনামে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও সম্পত্তি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, শফিপুর এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে পৌরসভা থেকে এ জন্য কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্ল্যান পাস নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তাঁর পিতা প্রকৃতপক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন বলেন, সফিপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন (পিতা ইসহাক) নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে আমি চিনি না।” একই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আহাদ আলী বলেন, “এখানে বাইরে থেকে এসে অনেকেই বসবাস করেন। এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ অর্থের মাধ্যমে রাশেদ হোসাইন নিজ পৈত্রিক সম্পত্তির পাশাপাশি এলাকার এক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবে তারা প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অভিযোগকারী মো. জাবেদ আলম বলেন, রাশেদ হোসাইনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে আমাকে দিয়ে অভিযোগ করিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শ্যামনগর ভূমি অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, টাকা ছাড়া নামজারি, খারিজ কিংবা মিসকেস-সংক্রান্ত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ না হওয়া, নথিপত্র গায়েব হওয়া এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি অন্যের নামে নামজারি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, বাড়িটি পারিবারিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে পরিবারের সবার অর্থ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।