আজকের বাণী ডেস্ক: সাতক্ষীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় কৃষিভিত্তিক জেলা। এই জেলার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া একে বহু ফসলের জন্য উপযোগী করে তুলেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় ৮৪১ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে, যেখানে গত বছর এই পরিমাণ ছিল ৭৮৯ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে কলারোয়া উপজেলায়—৪৭০ হেক্টর জমিতে। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি ফল উৎপাদনের অঙ্ক নয়, বরং তা সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতির একটি উৎসাহজনক রূপরেখা।
বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, জমির ক্ষয়, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য সংকট ইত্যাদি সমস্যার মাঝে কুল চাষ একটি কার্যকর ও লাভজনক বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার মতো এলাকায়, যেখানে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে এখন ফলছে নানা জাতের কুল—বল সুন্দরী, থাই আপেল, ভারত সুন্দরী, বাউ কুল, আপেল কুল, নাইনটি, তাইওয়ান কুলসহ আরও অনেক। এই ফলগুলোর শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, দেশের বাইরে থেকেও রয়েছে যথেষ্ট সাড়া।
কুল চাষে খরচ কম, পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম, আর লাভ বেশি—এই বাস্তবতা কৃষকদের আগ্রহী করে তুলেছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, এই খাতে বেকার যুবকেরাও ঝুঁকছেন। কৃষিকে শুধু জীবনধারণ নয়, বরং একটি পেশা হিসেবে গ্রহণ করার মনোভাব গড়ে উঠছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আশার আলো জ্বালায়।
তবে এই সম্ভাবনাকে স্থায়ী ও টেকসই করতে হলে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও সুষ্ঠু পরিকল্পনা। চাষিদের প্রশিক্ষণ, মানসম্পন্ন চারা সরবরাহ, সেচ ও বালাই নিয়ন্ত্রণে সহায়তা এবং সর্বোপরি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া উৎপাদিত কুল সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি।
আমাদের বিশ্বাস, সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে কুল চাষ হতে পারে সাতক্ষীরার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এটি শুধু কৃষির উন্নয়ন নয়, বরং বেকারত্ব হ্রাস ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
সাতক্ষীরার মাঠে মাঠে কুল নয়, ফুটে উঠুক কৃষকের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রিপোর্টার 























