আজ মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সংসদে ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য বিশেষ ভাতার দাবি গাজী নজরুল ইসলাম এমপির

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১০:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার অসহায় ‘বাঘ বিধবা’দের মানবেতর জীবনের চিত্র তুলে ধরে তাদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই মানবিক দাবিটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।

এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরবন কেন্দ্রিক হওয়ায় বহু মানুষ মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা ও কাঠ সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর জঙ্গলে যান। সেখানে বাঘের আক্রমণে প্রতি বছর অনেক উপার্জনক্ষম মানুষ প্রাণ হারান। সংসদ সদস্য জানান, বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এই নারীদের স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ বলা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এই নারীরা সমাজ ও পরিবারে চরম অবহেলা এবং আর্থিক অনটনের শিকার হন। সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবিকা নির্বাহের কোনো পথ না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই নারীদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। গাজী নজরুল ইসলাম বিগত দিনের একটি উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাঘের আক্রমণে নিহতদের পরিবারের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় বাঘ বিধবাদের ভাতা প্রদান, তাদের সন্তানদের শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজও প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে সেই মহতী উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, উপকূলীয় এলাকার এই বিশেষ সমস্যাটি বিবেচনায় নিয়ে বাঘ বিধবাদের জন্য দ্রুত আলাদা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা বিশেষ ভাতা চালু করা হোক। পাশাপাশি স্থগিত হওয়া সেই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি। সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবটি অধিবেশনে উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপকূলীয় মানুষের জীবনের ঝুঁকি ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার এই দাবি বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য বিশেষ ভাতার দাবি গাজী নজরুল ইসলাম এমপির

আপডেট সময়: ১০:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার অসহায় ‘বাঘ বিধবা’দের মানবেতর জীবনের চিত্র তুলে ধরে তাদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই মানবিক দাবিটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।

এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরবন কেন্দ্রিক হওয়ায় বহু মানুষ মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা ও কাঠ সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর জঙ্গলে যান। সেখানে বাঘের আক্রমণে প্রতি বছর অনেক উপার্জনক্ষম মানুষ প্রাণ হারান। সংসদ সদস্য জানান, বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এই নারীদের স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ বলা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এই নারীরা সমাজ ও পরিবারে চরম অবহেলা এবং আর্থিক অনটনের শিকার হন। সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবিকা নির্বাহের কোনো পথ না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই নারীদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। গাজী নজরুল ইসলাম বিগত দিনের একটি উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাঘের আক্রমণে নিহতদের পরিবারের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় বাঘ বিধবাদের ভাতা প্রদান, তাদের সন্তানদের শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজও প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে সেই মহতী উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, উপকূলীয় এলাকার এই বিশেষ সমস্যাটি বিবেচনায় নিয়ে বাঘ বিধবাদের জন্য দ্রুত আলাদা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা বিশেষ ভাতা চালু করা হোক। পাশাপাশি স্থগিত হওয়া সেই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি। সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবটি অধিবেশনে উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপকূলীয় মানুষের জীবনের ঝুঁকি ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার এই দাবি বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।