আজ বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় গোপন ও হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা রাকিব স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • ৪৩১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: রাজনৈতিক পরিচয় গোপন, সাংগঠনিক দায়িত্বে চরম অবহেলা, সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা থেকে মো. রাকিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত রাকিব হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলার ৯নং মথুরেশপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। ছাত্রদলের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মথুরেশপুর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা গোপন রেখেই তিনি ছাত্রদলে সক্রিয় হন।

ছাত্রদলের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হোসেন একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে আছিয়া নামের এক নারীর কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। ওই অর্থের বিনিময়ে কালিগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ‘ম্যানেজ’ করার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

এছাড়াও সদ্য সাবেক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল সদস্য মো. হাসিবুর রহমান হৃদয়ের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় রাকিব সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ সাদ্দাম ও সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না। বহিষ্কারই তার প্রাপ্য শাস্তি।”

বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগঠনের ভেতরে স্বস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় গোপন ও হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা রাকিব স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত

আপডেট সময়: ০৯:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: রাজনৈতিক পরিচয় গোপন, সাংগঠনিক দায়িত্বে চরম অবহেলা, সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা থেকে মো. রাকিব হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত রাকিব হোসেন কালিগঞ্জ উপজেলার ৯নং মথুরেশপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। ছাত্রদলের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মথুরেশপুর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা গোপন রেখেই তিনি ছাত্রদলে সক্রিয় হন।

ছাত্রদলের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হোসেন একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে আছিয়া নামের এক নারীর কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। ওই অর্থের বিনিময়ে কালিগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ‘ম্যানেজ’ করার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

এছাড়াও সদ্য সাবেক সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল সদস্য মো. হাসিবুর রহমান হৃদয়ের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় রাকিব সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ সাদ্দাম ও সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না। বহিষ্কারই তার প্রাপ্য শাস্তি।”

বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগঠনের ভেতরে স্বস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।