বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে। তবে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ হলেও কাউকে আটক করা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)–এর অধীনস্থ ব্যাটালিয়ন সদর, কুশখালি, তুলইগাছা, কাকডাঙ্গা, মাদরা, হিজলদী, সুলতানপুর ও চান্দুরিয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযানে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, আখড়াখোলা এলাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ক্ষতিকর জেলি বা অপদ্রব্য পুশকৃত বাগদা চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়, যা পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ভারতীয় শাড়ি, আগরবাতি ও ঔষধ উদ্ধার করা হয়েছে। কুশখালি, তুলইগাছা, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এলাকা থেকে শাড়ি, হিজলদী ও চান্দুরিয়া এলাকা থেকে আগরবাতি এবং সুলতানপুর এলাকা থেকে ঔষধ জব্দ করা হয়।
এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদস্যরা পৃথক অভিযানে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ক্ষতিকর জেলি পুশকৃত বাগদা চিংড়ি মাছ জব্দ করেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ–এর সামনে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে দুটি ট্রাক ও একটি নসিমন গাড়ি তল্লাশি করে এসব মাছ উদ্ধার করা হয়। পরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত পর্ষদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৬৪ কেজি বাগদা চিংড়িতে ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত করে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এসব মাছ প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং এ ঘটনায় ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিজিবির নিয়মিত টহল ও অভিযানের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। দেশীয় শিল্প রক্ষা, রাজস্ব আদায় নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে এ ধরনের অভিযানে কাউকে আটক করা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জড়িত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।
রিপোর্টার 













