আজ রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম -01711 211241

নিয়োগের আগেই পাঁচধাপ ডিঙিয়ে পদোন্নতি চসিকে!

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ (চাকরি) স্থায়ী হওয়ার পাঁচ মাস পূর্বেই মো. আবু তাহের নামক এক ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতিমধ্যে তার পদোন্নতিপত্র প্রস্তুত করে চসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিবের টেবিলে উত্থাপন করা হয়েছে। স্বাক্ষর হলেই দু/এক দিনের মধ্যে তাকে এই পদোন্নতিপত্র দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

যদিও চাকুরি বিধি অনুসারে এই পদে পদোন্নতি পেতে হলে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ স্থায়ী হওয়ার পর পাঁচটি ধাপে অন্তত ২০ হতে ২৫ বছর চাকরিকাল অতিবাহিত হওয়া বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চলতি মাসের ১ তারিখ (১ এপ্রিল ২০২৪) হতে নিয়োগ পাওয়া মো. আবু তাহের এর বেলায় সরকারের এই নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি বিধির কোনো নিয়মই অনুসরণ করেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। চসিকের সংস্থাপন শাখার একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ (চাকরি) স্থায়ী হয়ে অন্তত পাঁচ বছর চাকরি করার পর সিনিয়র স্বাস্থ্য সহকারী পদে পদোন্নতি হওয়ার কথা। এই পদে শান্তি-শৃঙ্খলা মেনে পাঁচ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি পাবেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকসহ আরও কয়েকটি কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি এই পদে চাকরিকাল পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পাবেন। এরপর পাঁচ বছর অতিক্রম হলে সিনিয়র স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং এর আরও পাঁচ বছর পর স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতির দেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে চসিকের অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারী মো. আবু তাহেরকে চলতি মাসের ১ তারিখ হতে (১ এপ্রিল ২০২৪) স্বাস্থ্য সহকারী পদে স্থায়ী করে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। যা গত এক সপ্তাহ পূর্বে তার হস্তগত হয়েছে। এই নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার এক সপ্তাহ অতিক্রম না হতেই এবার তাকে পাঁচ ধাপ ডিঙিয়ে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দিয়ে পত্র ইস্যু করা হয়েছে। চসিক সচিবের দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গত বছরের ৩ ডিসেম্বর হতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা জন্য বিদেশে অবস্থান করেন। ওই সময় চসিকের প্রধান মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন সংস্থাটির সচিব খালেদ মাহমুদ। এই সময়ে তিনি সম্পূর্ণ বিধিবর্হিভুতভাবে চসিকের অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারী আবু তাহেরকে সংস্থাটির স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতির ফাইল অনুমোদন দেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা (প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের টেবিলে সেই পদোন্নতিপত্রটি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব (প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের দপ্তরে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কোনো স্বাক্ষাৎ মিলেনি। এমনকি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও এই কর্মকর্তার কোনো সাড়া দেননি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই ধরণের কোনো ফাইল আমার টেবিলে এসেছে কিনা জানা নেই। তবে বিধি উপেক্ষা করে কোনো নিয়োগ-পদোন্নতি অন্তত আমার হাতে হবে না- এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন।

ট্যাগস:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিয়োগের আগেই পাঁচধাপ ডিঙিয়ে পদোন্নতি চসিকে!

আপডেট সময়: ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ (চাকরি) স্থায়ী হওয়ার পাঁচ মাস পূর্বেই মো. আবু তাহের নামক এক ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতিমধ্যে তার পদোন্নতিপত্র প্রস্তুত করে চসিকের ভারপ্রাপ্ত সচিবের টেবিলে উত্থাপন করা হয়েছে। স্বাক্ষর হলেই দু/এক দিনের মধ্যে তাকে এই পদোন্নতিপত্র দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

যদিও চাকুরি বিধি অনুসারে এই পদে পদোন্নতি পেতে হলে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ স্থায়ী হওয়ার পর পাঁচটি ধাপে অন্তত ২০ হতে ২৫ বছর চাকরিকাল অতিবাহিত হওয়া বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চলতি মাসের ১ তারিখ (১ এপ্রিল ২০২৪) হতে নিয়োগ পাওয়া মো. আবু তাহের এর বেলায় সরকারের এই নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি বিধির কোনো নিয়মই অনুসরণ করেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। চসিকের সংস্থাপন শাখার একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ (চাকরি) স্থায়ী হয়ে অন্তত পাঁচ বছর চাকরি করার পর সিনিয়র স্বাস্থ্য সহকারী পদে পদোন্নতি হওয়ার কথা। এই পদে শান্তি-শৃঙ্খলা মেনে পাঁচ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি পাবেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকসহ আরও কয়েকটি কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি এই পদে চাকরিকাল পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পাবেন। এরপর পাঁচ বছর অতিক্রম হলে সিনিয়র স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং এর আরও পাঁচ বছর পর স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতির দেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে চসিকের অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারী মো. আবু তাহেরকে চলতি মাসের ১ তারিখ হতে (১ এপ্রিল ২০২৪) স্বাস্থ্য সহকারী পদে স্থায়ী করে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। যা গত এক সপ্তাহ পূর্বে তার হস্তগত হয়েছে। এই নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার এক সপ্তাহ অতিক্রম না হতেই এবার তাকে পাঁচ ধাপ ডিঙিয়ে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দিয়ে পত্র ইস্যু করা হয়েছে। চসিক সচিবের দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গত বছরের ৩ ডিসেম্বর হতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা জন্য বিদেশে অবস্থান করেন। ওই সময় চসিকের প্রধান মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন সংস্থাটির সচিব খালেদ মাহমুদ। এই সময়ে তিনি সম্পূর্ণ বিধিবর্হিভুতভাবে চসিকের অস্থায়ী স্বাস্থ্য সহকারী আবু তাহেরকে সংস্থাটির স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতির ফাইল অনুমোদন দেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্বে থাকা (প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের টেবিলে সেই পদোন্নতিপত্রটি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব (প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের দপ্তরে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কোনো স্বাক্ষাৎ মিলেনি। এমনকি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও এই কর্মকর্তার কোনো সাড়া দেননি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই ধরণের কোনো ফাইল আমার টেবিলে এসেছে কিনা জানা নেই। তবে বিধি উপেক্ষা করে কোনো নিয়োগ-পদোন্নতি অন্তত আমার হাতে হবে না- এটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন।