আজ রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম -01711 211241

‘শিশুসাহিত্যিক পরিচয়ের আড়ালে পর্নোগ্রাফি বানাতেন টিপু কিবরিয়া’

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

শিশুসাহিত্যিক, আলোকচিত্রী পরিচয়ের আড়ালে পর্নোগ্রাফি তৈরি করার অভিযোগে চক্রের মূল হোতা টিপু কিবরিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, শিশুসাহিত্যিক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে টিপু কিবরিয়ার। আলোকচিত্রী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু সুন্দর এই পরিচয়ের আড়ালে তার আরেকটি কুৎসিত চেহারা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা। পথশিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সরবরাহ করে ২০১৪ সালে সিআইডি কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। সেই টি আই এম ফখরুজ্জামান ওরফে টিপু কিবরিয়া এবার একই অপরাধে সহযোগী মো. কামরুল ইসলাম ওরফে সাগরসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রায় ২৫ হাজার পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত টি আই এম ফকরুজ্জামান এক সময়কার জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক। তিনি টিপু কিবরিয়া নামে পরিচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘কিশোর পত্রিকা’য় সহকারী সম্পাদক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশুসাহিত্য রচনা করতেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে শিশু পর্নোগ্রাফির সাথে জড়িত হন টিপু কিবরিয়া। ২০১৪ সালে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তার নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। ২০২১ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সাহিত্য চর্চার আড়ালে পুনরায় শিশু পর্নোগ্রাফির সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করেন টিপু কিবরিয়া।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, টিপু কিবরিয়া গুলিস্তান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের অর্থের লোভ দেখিয়ে কাছে আনেন। নিজের বাসা ছাড়াও বিভিন্ন পার্কের নির্জন স্থানে শিশুদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। তার কয়েকজন সহযোগীও রয়েছে। যাদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ২০ জন পথশিশু শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অশ্লীল ছবিগুলো পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটে আপলোড করলে টিপু কিবরিয়ার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করে। টিপু কিবরিয়া অর্থের বিনিময়ে ছিন্নমূল পথশিশুদের ব্যবহার করে তাদের ভিডিও কনটেন্ট সরবরাহ করত।

তিনি আরও বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় টিপুর বাসায় তার ব্যবহৃত ডেস্কটপ পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ পর্যন্ত ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির নাগরিকসহ প্রায় ২০-২৫টি আইডি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যারা এসব আইডি দিয়ে টিপু কিবরিয়ার সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফির বিভিন্ন কনটেন্টের জন্য যোগাযোগ করত। এ ছাড়া তার ক্যামেরা, পিসি ও ক্লাউড স্টোরেজ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০০ স্থিরচিত্র ও প্রায় ১০০০ ভিডিও কনটেন্ট পাওয়া গেছে।

ট্যাগস:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

‘শিশুসাহিত্যিক পরিচয়ের আড়ালে পর্নোগ্রাফি বানাতেন টিপু কিবরিয়া’

আপডেট সময়: ১১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

শিশুসাহিত্যিক, আলোকচিত্রী পরিচয়ের আড়ালে পর্নোগ্রাফি তৈরি করার অভিযোগে চক্রের মূল হোতা টিপু কিবরিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, শিশুসাহিত্যিক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে টিপু কিবরিয়ার। আলোকচিত্রী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু সুন্দর এই পরিচয়ের আড়ালে তার আরেকটি কুৎসিত চেহারা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা। পথশিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সরবরাহ করে ২০১৪ সালে সিআইডি কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। সেই টি আই এম ফখরুজ্জামান ওরফে টিপু কিবরিয়া এবার একই অপরাধে সহযোগী মো. কামরুল ইসলাম ওরফে সাগরসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে প্রায় ২৫ হাজার পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত টি আই এম ফকরুজ্জামান এক সময়কার জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক। তিনি টিপু কিবরিয়া নামে পরিচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে সেবা প্রকাশনীর মাসিক ‘কিশোর পত্রিকা’য় সহকারী সম্পাদক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তিনি ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশুসাহিত্য রচনা করতেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে শিশু পর্নোগ্রাফির সাথে জড়িত হন টিপু কিবরিয়া। ২০১৪ সালে সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তার নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। ২০২১ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সাহিত্য চর্চার আড়ালে পুনরায় শিশু পর্নোগ্রাফির সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করেন টিপু কিবরিয়া।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, টিপু কিবরিয়া গুলিস্তান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে ছিন্নমূল ছেলে শিশুদের অর্থের লোভ দেখিয়ে কাছে আনেন। নিজের বাসা ছাড়াও বিভিন্ন পার্কের নির্জন স্থানে শিশুদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। তার কয়েকজন সহযোগীও রয়েছে। যাদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ২০ জন পথশিশু শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অশ্লীল ছবিগুলো পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইটে আপলোড করলে টিপু কিবরিয়ার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করে। টিপু কিবরিয়া অর্থের বিনিময়ে ছিন্নমূল পথশিশুদের ব্যবহার করে তাদের ভিডিও কনটেন্ট সরবরাহ করত।

তিনি আরও বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় টিপুর বাসায় তার ব্যবহৃত ডেস্কটপ পরীক্ষা করে দেখা যায়, দুটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ পর্যন্ত ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির নাগরিকসহ প্রায় ২০-২৫টি আইডি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যারা এসব আইডি দিয়ে টিপু কিবরিয়ার সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফির বিভিন্ন কনটেন্টের জন্য যোগাযোগ করত। এ ছাড়া তার ক্যামেরা, পিসি ও ক্লাউড স্টোরেজ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০০ স্থিরচিত্র ও প্রায় ১০০০ ভিডিও কনটেন্ট পাওয়া গেছে।