আজ শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

বাংলাদেশের ওপর বিরক্ত সৌদি সরকার

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি সরকার বাংলাদেশের ওপর অনেকটা বিরক্ত বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হজ এজেন্সিগুলো সেবাদানকারী কোম্পানি নির্বাচন, তাঁবুর এলাকা সংরক্ষণ, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া, ক্যাটারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির শেষ দিন থাকলেও এখনো চুক্তি শুরু করতে পারেনি তারা। এরমধ্যে হজ এজেন্সির কোটা নিয়ে বারবার সৌদি সরকারের অনুরোধের কারণে সে দেশের সরকার আমাদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে হজ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সর্বশেষ গতকাল (৮ জানুয়ারি) সৌদি সরকার জানিয়েছে- বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য সেবাদানকারী কোম্পানি নির্বাচন, তাঁবুর এলাকা সংরক্ষণ, মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি/হোটেল ভাড়া, ক্যাটারিং কোম্পানির সাথে চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখনও শুরু করা হয়নি। এসব কার্যক্রম সম্পাদনের সর্বশেষ তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি থাকলেও তারা কিছু করেনি।

হজ এজেন্সির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হজযাত্রীরা কোনো সংকট কিংবা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না পড়ে এমন কোনো কাজ করবেন না। আমি হজ এজেন্সি মালিক বা পরিচালকদেরকেও দুয়েকদিনের মধ্যেই সৌদি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক লিড এজেন্সি গঠনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানাই।

‘হজ এজেন্সি প্রতি ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা এক হাজার জন নির্ধারণ করে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছ সৌদি সরকার। ফলে সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’ এজেন্সি কোটা প্রথম ২৫০ পরে ৫০০ করার জন্য আমি ব্যক্তিগত দুইবার সৌদি সরকার ও বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছি। এরপর কয়েক দফায় বৈঠক, ডিও লেটার দিয়েও এ ব্যাপারে পজিটিভ কোনো অগ্রগতি হয়নি— বলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর ১৮ জুন সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইনে জুম প্লাটফর্মে এক সভায় সৌদি সরকারকে সেই কোটা ২ হাজার হবে বলে পুনরায় জানানো হয়। সেই সভায় আমাদের দেশের হজ এজেন্সি মালিক বা প্রতিনিধিরাও ছিলেন। গত অক্টোবরে সৌদি আরব সফরের সময় সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে এজেন্সির কোটা গতবছরের মতো ২৫০ জন করার অনুরোধ করি। আমার পুনঃপুন অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তা হয় না। সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর রাষ্ট্রদূত, একই অনুরোধ জানাই। এরপর ৯ ডিসেম্বর হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী আমাকে একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই হাজার থেকে কমিয়ে এক হাজার নির্ধারণ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সনের হজের ২ হাজার হবে। এরপর হজ এজেন্সি মালিকদের অনুরোধে ফের গত ২২ ডিসেম্বর হজযাত্রীর কোটা ৫০০ জন করার অনুরোধ করে ডিও লেটার দেয়। পাশাপাশি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী এবং ভাইস-মিনিস্টারকে আমি ক্ষুদে বার্তাও পাঠিয়েছি। ডিও পত্র ও ক্ষুদে বার্তা পেয়ে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস-মিনিস্টার আমাদেরকে কিছুটা আশ্বস্ত করে ফিরতি বার্তাও পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমরা তাদের কাছ থেকে লিখিত কোনো পত্র পাচ্ছিলাম না। গত ২ জানুয়ারি সৌদি সরকার ‘সুনির্দিষ্ট কমিটি’ তা অনুমোদন করেনি বলে জানায়। কোটা কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ঘাটতি ছিল না। হজ এজেন্সি যদি আমাদের দোষারোপ করে তাহলে ভুল হবে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হজে সর্বোচ্চ হজযাত্রী পাঠানোর দেশ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং ভারতের জন্য এজেন্সি প্রতি সর্বনিম্ন হজযাত্রীর কোটা ২ হাজার জন। এখানে বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন কোটা নির্ধারণ হয়ত করবে না। হজের খরচ কমানোর প্রসঙ্গে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি বিমান ভাড়া কমানোর জন্য উপদেষ্টাকে ডিও লেটার দিয়েছিলাম। বিমান মন্ত্রণালয় তা নাকচ করেছে। তাই আপাতত হজের খরচ আর কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

লিড এজেন্সি নিয়োগ ও কেউ যদি কোনো প্রতারণা করে তাহলে মন্ত্রণালয়কে জানানো অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হজ ব্যবস্থাপনা করা হবে। এখানে যারাই অনিয়ম করবেন তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। চলতি বছর মোট ৭৫৩টি হজ এজেন্সি হজযাত্রী পাঠানোর জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের ১৩৪টি লিড এজেন্সি মাধ্যমে পরিচালিত হবে। গত বছর ৬৯৫টি হজ এজেন্সির ২৫৯টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। একই সঙ্গে এ বছর সর্বমোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজ করার জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৮১ হাজার ৯০০ জন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের ওপর বিরক্ত সৌদি সরকার

আপডেট সময়: ০২:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি সরকার বাংলাদেশের ওপর অনেকটা বিরক্ত বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হজ এজেন্সিগুলো সেবাদানকারী কোম্পানি নির্বাচন, তাঁবুর এলাকা সংরক্ষণ, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া, ক্যাটারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির শেষ দিন থাকলেও এখনো চুক্তি শুরু করতে পারেনি তারা। এরমধ্যে হজ এজেন্সির কোটা নিয়ে বারবার সৌদি সরকারের অনুরোধের কারণে সে দেশের সরকার আমাদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে হজ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সর্বশেষ গতকাল (৮ জানুয়ারি) সৌদি সরকার জানিয়েছে- বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য সেবাদানকারী কোম্পানি নির্বাচন, তাঁবুর এলাকা সংরক্ষণ, মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি/হোটেল ভাড়া, ক্যাটারিং কোম্পানির সাথে চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখনও শুরু করা হয়নি। এসব কার্যক্রম সম্পাদনের সর্বশেষ তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি থাকলেও তারা কিছু করেনি।

হজ এজেন্সির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হজযাত্রীরা কোনো সংকট কিংবা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি না পড়ে এমন কোনো কাজ করবেন না। আমি হজ এজেন্সি মালিক বা পরিচালকদেরকেও দুয়েকদিনের মধ্যেই সৌদি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক লিড এজেন্সি গঠনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানাই।

‘হজ এজেন্সি প্রতি ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা এক হাজার জন নির্ধারণ করে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছ সৌদি সরকার। ফলে সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’ এজেন্সি কোটা প্রথম ২৫০ পরে ৫০০ করার জন্য আমি ব্যক্তিগত দুইবার সৌদি সরকার ও বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছি। এরপর কয়েক দফায় বৈঠক, ডিও লেটার দিয়েও এ ব্যাপারে পজিটিভ কোনো অগ্রগতি হয়নি— বলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর ১৮ জুন সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইনে জুম প্লাটফর্মে এক সভায় সৌদি সরকারকে সেই কোটা ২ হাজার হবে বলে পুনরায় জানানো হয়। সেই সভায় আমাদের দেশের হজ এজেন্সি মালিক বা প্রতিনিধিরাও ছিলেন। গত অক্টোবরে সৌদি আরব সফরের সময় সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে এজেন্সির কোটা গতবছরের মতো ২৫০ জন করার অনুরোধ করি। আমার পুনঃপুন অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তা হয় না। সর্বশেষ গত ২৪ নভেম্বর রাষ্ট্রদূত, একই অনুরোধ জানাই। এরপর ৯ ডিসেম্বর হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী আমাকে একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই হাজার থেকে কমিয়ে এক হাজার নির্ধারণ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সনের হজের ২ হাজার হবে। এরপর হজ এজেন্সি মালিকদের অনুরোধে ফের গত ২২ ডিসেম্বর হজযাত্রীর কোটা ৫০০ জন করার অনুরোধ করে ডিও লেটার দেয়। পাশাপাশি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী এবং ভাইস-মিনিস্টারকে আমি ক্ষুদে বার্তাও পাঠিয়েছি। ডিও পত্র ও ক্ষুদে বার্তা পেয়ে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস-মিনিস্টার আমাদেরকে কিছুটা আশ্বস্ত করে ফিরতি বার্তাও পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমরা তাদের কাছ থেকে লিখিত কোনো পত্র পাচ্ছিলাম না। গত ২ জানুয়ারি সৌদি সরকার ‘সুনির্দিষ্ট কমিটি’ তা অনুমোদন করেনি বলে জানায়। কোটা কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ঘাটতি ছিল না। হজ এজেন্সি যদি আমাদের দোষারোপ করে তাহলে ভুল হবে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হজে সর্বোচ্চ হজযাত্রী পাঠানোর দেশ ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং ভারতের জন্য এজেন্সি প্রতি সর্বনিম্ন হজযাত্রীর কোটা ২ হাজার জন। এখানে বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন কোটা নির্ধারণ হয়ত করবে না। হজের খরচ কমানোর প্রসঙ্গে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি বিমান ভাড়া কমানোর জন্য উপদেষ্টাকে ডিও লেটার দিয়েছিলাম। বিমান মন্ত্রণালয় তা নাকচ করেছে। তাই আপাতত হজের খরচ আর কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

লিড এজেন্সি নিয়োগ ও কেউ যদি কোনো প্রতারণা করে তাহলে মন্ত্রণালয়কে জানানো অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হজ ব্যবস্থাপনা করা হবে। এখানে যারাই অনিয়ম করবেন তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। চলতি বছর মোট ৭৫৩টি হজ এজেন্সি হজযাত্রী পাঠানোর জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের ১৩৪টি লিড এজেন্সি মাধ্যমে পরিচালিত হবে। গত বছর ৬৯৫টি হজ এজেন্সির ২৫৯টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। একই সঙ্গে এ বছর সর্বমোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজ করার জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৮১ হাজার ৯০০ জন।