আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা Logo সাতক্ষীরায় কিশোরী ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ আটক ৩ Logo কলারোয়ায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত Logo শ্যামনগরে বিসিডিএস’র বার্ষিক সম্মেলন ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত Logo তালায় ২৭ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু Logo সাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন Logo সাতক্ষীরায় ইজিবাইকের ধাক্কায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিহত Logo শ্যামনগরে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারী পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার Logo ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৯৪০ টাকা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরায় স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল আজম খাঁন, সাতক্ষীরা ঃ সাতক্ষীরা জেলার তালাউপজেলার পাটকেলঘাটার ধানদিয়া গ্রামের অসকের মোড়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে পাটকেলঘাটা থানাধীন ধানদিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করার পর ভারতে চলে না গেলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন আবার মোবাইল থেকে বিভিন্ন পরিচয়ে চলছে চাঁদাদাবি ও জমি জবরদখলের হুমকি বলে অভিযোগ করেন পার্থ চাক্রবর্তী ও তার পরিবার।শনিরার সকালে সরেজমিনে ধানদিয়া গ্রামের রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ছেলে এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তীর বিশাল প্রাচীর দেওয়া বাড়িতে যেয়ে দেখা গেছে বাড়ির উঠান থেকে বারান্দা ও ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে পোড়া কাপড়, পোড়া সেচ মোটর, ভাঙা চাউলের ড্রাম, পায়খানার প্যান, কুড়াল দিয়ে কোপানো ফ্রিজ, ভাঙা আলমারি, ভাঙা দরজা, হাঁড়ি পাতিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। নতুন করে হামলার ভয়ে দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে অবরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।পার্থ চক্রবর্তী জানান,আমার ২৪ বিঘা জমির প্রায় তিন বিঘা জমির উপর বাড়ি। এক প্রতিবন্ধি ছেলেসহ পাঁচজনের পরিবার নিয়ে বসবাস করি বাড়িতে। মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে বাথরুমের পাশের প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢোকে ধানদিয়া সরদার পাড়ার শাহজাহান সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ও ভাইপো শামীম সরদার।। তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর ভেঙে ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রাচীরের দুটি ফটকের তালা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ভেঙে ফেলা হয়। দরজা খোলার সাথে সাথে সরদারপাড়ার গহর সরদারের ছেলে শাহজাহান সরদার, তার ভাই নজরুল ইসলাম সরদারসহ চারজন হাতে দা ও কুড়াল নিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে। একে একে তারা বাড়ির চাউলের ড্রাম, টিভি, ফ্রিজ, দরজা, আলমারি, পায়খানার প্যান, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। আলমারি থেকে লুটপাট করা হয় নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকাসহ চার ভরি ওজনের সোনার গহনা ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র। ভাঙচুর ও লুপাটে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী কাকলী চক্রবর্তীর ডান পায়ে কোপ মারে তারা। এছাড়া তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। ফিরোজ ও শামীমের হাতে থাকা দুটি বোতল থেকে পেট্রোল ছড়ানো হয় ঘর বাড়িতে। এরপর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। এ সময় বাড়ির বাইরে সাত থেকে আট জন সশস্ত্র পাহারায় ছিলে। চিৎকার শুনে একই গ্রামের মোজাম সরদারের ছেলে বিল্লাল হোসেন, মাদার সরদারের ছেলে কেরামত সরদার ও আজিজ সরদারের ছেলে হাফিজুর সরদার ছুঁটে এলে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ডাকাতি মামলা তুলে না নিয়ে ঘরবাড়ি ফেলে ভারতে চলে না গেলে নতুন ঘরে ঘরবাড়িতে তালা লাগিয়ে মানুষ জনসহ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। বুধবার সকালে বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ মামলা তুলে নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৯ মার্চ রাতে তার বাড়িতে দুর্র্ধষ ডাকাতি সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সর্বশেষ তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুল মতিন ধানদিয়া সরদারপাড়ার গহর সরদারের ছেলে শাহজাহান সরদার, শেখ ফজলুর রহমানের ছেলে চৌগাছা গ্রামের আরিজুল ইসলাম ও চোমরখালি গ্রামের মোড়লের ছেলে জালাল মোড়ল এর নাম উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই মামলাটির(সেশন- ৬১/১৭) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক সাক্ষী শেষে তদন্তকারি কর্মকর্তার সাক্ষ্য দানের জন্য দিন ধার্য আছে। সাজা হয়ে যেতে পারে আসামী শাহজাহান সরদার এমন আশঙ্কা করছিলেন। তাই হঠাৎ করে সরকার পরিবর্তণ হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে তার বাড়িতে এ হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।তবে স্থানীয়রা জানান, শাহজাহান সরদারের সুনাম নেই। ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ তার পায়েও গুলি করে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পার্থ চক্রবর্তী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে শাহাজান সরদার বলেন, জমিজমা সংক্রন্ত বিষয়ে পার্থ চক্রবর্তীর সাথে আমার ঝামেলা রয়েছে সে কারনে আমাকে হয়রানির জন্য এধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছে সে ।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা

সাতক্ষীরায় স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৯:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪

সাইফুল আজম খাঁন, সাতক্ষীরা ঃ সাতক্ষীরা জেলার তালাউপজেলার পাটকেলঘাটার ধানদিয়া গ্রামের অসকের মোড়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে পাটকেলঘাটা থানাধীন ধানদিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করার পর ভারতে চলে না গেলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন আবার মোবাইল থেকে বিভিন্ন পরিচয়ে চলছে চাঁদাদাবি ও জমি জবরদখলের হুমকি বলে অভিযোগ করেন পার্থ চাক্রবর্তী ও তার পরিবার।শনিরার সকালে সরেজমিনে ধানদিয়া গ্রামের রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ছেলে এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তীর বিশাল প্রাচীর দেওয়া বাড়িতে যেয়ে দেখা গেছে বাড়ির উঠান থেকে বারান্দা ও ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে পোড়া কাপড়, পোড়া সেচ মোটর, ভাঙা চাউলের ড্রাম, পায়খানার প্যান, কুড়াল দিয়ে কোপানো ফ্রিজ, ভাঙা আলমারি, ভাঙা দরজা, হাঁড়ি পাতিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। নতুন করে হামলার ভয়ে দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে অবরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।পার্থ চক্রবর্তী জানান,আমার ২৪ বিঘা জমির প্রায় তিন বিঘা জমির উপর বাড়ি। এক প্রতিবন্ধি ছেলেসহ পাঁচজনের পরিবার নিয়ে বসবাস করি বাড়িতে। মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে বাথরুমের পাশের প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢোকে ধানদিয়া সরদার পাড়ার শাহজাহান সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ও ভাইপো শামীম সরদার।। তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর ভেঙে ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রাচীরের দুটি ফটকের তালা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ভেঙে ফেলা হয়। দরজা খোলার সাথে সাথে সরদারপাড়ার গহর সরদারের ছেলে শাহজাহান সরদার, তার ভাই নজরুল ইসলাম সরদারসহ চারজন হাতে দা ও কুড়াল নিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে। একে একে তারা বাড়ির চাউলের ড্রাম, টিভি, ফ্রিজ, দরজা, আলমারি, পায়খানার প্যান, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। আলমারি থেকে লুটপাট করা হয় নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকাসহ চার ভরি ওজনের সোনার গহনা ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র। ভাঙচুর ও লুপাটে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী কাকলী চক্রবর্তীর ডান পায়ে কোপ মারে তারা। এছাড়া তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। ফিরোজ ও শামীমের হাতে থাকা দুটি বোতল থেকে পেট্রোল ছড়ানো হয় ঘর বাড়িতে। এরপর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। এ সময় বাড়ির বাইরে সাত থেকে আট জন সশস্ত্র পাহারায় ছিলে। চিৎকার শুনে একই গ্রামের মোজাম সরদারের ছেলে বিল্লাল হোসেন, মাদার সরদারের ছেলে কেরামত সরদার ও আজিজ সরদারের ছেলে হাফিজুর সরদার ছুঁটে এলে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ডাকাতি মামলা তুলে না নিয়ে ঘরবাড়ি ফেলে ভারতে চলে না গেলে নতুন ঘরে ঘরবাড়িতে তালা লাগিয়ে মানুষ জনসহ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। বুধবার সকালে বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ মামলা তুলে নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৯ মার্চ রাতে তার বাড়িতে দুর্র্ধষ ডাকাতি সংগঠিত হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সর্বশেষ তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুল মতিন ধানদিয়া সরদারপাড়ার গহর সরদারের ছেলে শাহজাহান সরদার, শেখ ফজলুর রহমানের ছেলে চৌগাছা গ্রামের আরিজুল ইসলাম ও চোমরখালি গ্রামের মোড়লের ছেলে জালাল মোড়ল এর নাম উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই মামলাটির(সেশন- ৬১/১৭) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক সাক্ষী শেষে তদন্তকারি কর্মকর্তার সাক্ষ্য দানের জন্য দিন ধার্য আছে। সাজা হয়ে যেতে পারে আসামী শাহজাহান সরদার এমন আশঙ্কা করছিলেন। তাই হঠাৎ করে সরকার পরিবর্তণ হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে তার বাড়িতে এ হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।তবে স্থানীয়রা জানান, শাহজাহান সরদারের সুনাম নেই। ডাকাতির অভিযোগে পুলিশ তার পায়েও গুলি করে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পার্থ চক্রবর্তী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে শাহাজান সরদার বলেন, জমিজমা সংক্রন্ত বিষয়ে পার্থ চক্রবর্তীর সাথে আমার ঝামেলা রয়েছে সে কারনে আমাকে হয়রানির জন্য এধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছে সে ।