আজ শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম -01711 211241

বিচারকের আদেশ জালিয়াতি, বেঞ্চ সহকারী জনি রিমান্ডে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১২:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

বিচারকের আদেশ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৯ এর বেঞ্চ সহকারী খন্দকার মোজাম্মেল হক জনির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সুমন চন্দ্র সরকার। আসামিপক্ষে কয়েকজন আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি জনি শেরেবাংলা নগর থানার এক মামলায় ২০২২ সালে ৯ মার্চ ও ২১ মার্চ দুটি ভিন্ন আদেশ নথিতে লিপিবদ্ধ করেন। তবে ওই আদেশের স্বাক্ষর আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের নয়। ২০২২ সালের ২১ মার্চ আসামি অহিদুজ্জামানকে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ২৪৯ ধারা অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে মুক্তি প্রদানের আদেশ প্রদান করা হয়। এ আদেশে বেঞ্চ সহকারী জনি বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে সেই আদেশ প্রচার করেন।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার এক মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন ও আশিকুর রহমানকে প্রবেশন প্রদানের আদেশ কজলিস্ট ও কোর্ট ডায়েরিতে লিখে রাখেন। যদিও এমন কোনো আদেশ বিচারক প্রচার করেননি। এমনকি নথিটি শুনানির জন্য বিচারকের কাছে উপস্থাপনও করা হয়নি। আসামি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এমন অপরাধ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এসব বিষয়ে গত ৩০ জুন তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি গত ১ জুলাই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে কারণ দর্শানোর জবাব প্রদান করেন। তার লিখিত ব্যাখ্যা থেকেও এটি সুস্পষ্ট, তিনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এসব অপরাধ সংঘটন করেছেন যা চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থি। এ ঘটনার পর একই আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. নূরে আলম বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিচারকের আদেশ জালিয়াতি, বেঞ্চ সহকারী জনি রিমান্ডে

আপডেট সময়: ১২:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

বিচারকের আদেশ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৯ এর বেঞ্চ সহকারী খন্দকার মোজাম্মেল হক জনির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সুমন চন্দ্র সরকার। আসামিপক্ষে কয়েকজন আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামি জনি শেরেবাংলা নগর থানার এক মামলায় ২০২২ সালে ৯ মার্চ ও ২১ মার্চ দুটি ভিন্ন আদেশ নথিতে লিপিবদ্ধ করেন। তবে ওই আদেশের স্বাক্ষর আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের নয়। ২০২২ সালের ২১ মার্চ আসামি অহিদুজ্জামানকে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ২৪৯ ধারা অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে মুক্তি প্রদানের আদেশ প্রদান করা হয়। এ আদেশে বেঞ্চ সহকারী জনি বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে সেই আদেশ প্রচার করেন।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার এক মামলায় আসামি নাসির উদ্দিন ও আশিকুর রহমানকে প্রবেশন প্রদানের আদেশ কজলিস্ট ও কোর্ট ডায়েরিতে লিখে রাখেন। যদিও এমন কোনো আদেশ বিচারক প্রচার করেননি। এমনকি নথিটি শুনানির জন্য বিচারকের কাছে উপস্থাপনও করা হয়নি। আসামি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এমন অপরাধ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এসব বিষয়ে গত ৩০ জুন তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি গত ১ জুলাই নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে কারণ দর্শানোর জবাব প্রদান করেন। তার লিখিত ব্যাখ্যা থেকেও এটি সুস্পষ্ট, তিনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এসব অপরাধ সংঘটন করেছেন যা চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থি। এ ঘটনার পর একই আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. নূরে আলম বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।