আজ রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরা থানায় হামলার চেষ্টা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি Logo যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে পিস্তলসহ যুবক আটক Logo মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ Logo সাতক্ষীরায় কোটা বিরোধীদের সাথে ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া Logo কোটা বহালে হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল Logo সাতক্ষীরায় কোটা আন্দলনকারী ও ছাত্রলীগ মুখোমুখি অবস্থানে Logo বেনা‌পো‌লে ঘোষণা বহির্ভূত ১৫ হাজার ৭৫০ কেজি সালফিউরিক এসিড জব্দ Logo ‘বাবাকে হত্যা করেছি আমাকে গ্রেপ্তার করুন’ Logo সাতক্ষীরায় দুই রোহিঙ্গা নারীসহ মানব পাচারকারী আটক Logo প্রশ্নফাঁসে জড়িত কুমিল্লার সোহেলের বোন শিক্ষা অফিসার, ভাবি শিক্ষক
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম -01711 211241

সাতক্ষীরা থানার সাবেক ওসি-এসআইয়ের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৪:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

আট বছর আগে সাতক্ষীরা শহরের পারকুকরালির হোমিও চিকিৎসক ডা. মোখলেছুর রহমান জনিকে লকআপে তিন দিন আটক রাখার পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সদর থানার সাবেক ওসি এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেনের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম এসএম আশিকুর রহমান এ আদেশ দেন। আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলায় সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেনের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জামিন বাতিলের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্লার। সাবেক ওসি এমদাদুল হক শেখ পিরাজপুর জেলা সদরের পিরাজপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে ও সাবেক এসআই মো. হিমেল হোসেন গোপালগঞ্জ জেলা সদরের করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালর ৪ আগস্ট রাত সাড় ৯টার দিকে অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ কিনতে গেলে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী সিনেমা হলের সামনে ফটোস্ট্যাটের দোকান থেকে এসআই হিমেল হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে (২৭) থানায় ধরে নিয়ে যান। ৫,৬ ও ৭ আগস্ট স্ত্রী জেসমিন নাহার রেশমা তার শ্বশুর আব্দুর রাশেদ, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ ও স্বজনদের নিয়ে থানা লকআপ থেকে খাবার দিয়েছেন ও তার সঙ্গে কথা বলেছেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেলের সঙ্গে কথা বললে জনির আল্লার দল নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে তৎকালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন ও উপপরিদর্শক হিমেল ডা. জনির স্ত্রী রেশমার কাছে দাবি করেন মোটা অংকের টাকা। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়।

৮ আগস্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ, সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন (পাটকলঘাটায় ১২০ ভরি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২০২১ সালে চাকরিচ্যুত), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি।

ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ সাধারণ ডায়েরি না নেওয়ায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেসমিন নাহার রেশমা। অবশেষে ২০১৭ সালর ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন জেসমিন নাহার রেশমা। মামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।

পরবর্তীতে আদালত মোখলছুরকে ওই বছরের ১২ এপ্রিলের মধ্যে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করানোর নির্দেশের পাশাপাশি ৯ মে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা লিগ্যাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসএম জাভিদ হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তকালে সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্লা নিখোঁজ ডা. মোখলেছুর রহমান জনি আল্লার দল নামে একটি জঙ্গি সংগঠন করতেন বলে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন রিটকারীর বিপক্ষে যায়। পরে আদালতের নির্দেশে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুল্লাহ মাহমুদ হাইকোর্টে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে থানা লকআপ থেকে ডা. জনির নিখোঁজ হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরাজ হোসেন মোল্লা ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেন হোমিও চিকিৎসক ডা. মোখলেছুর রহমানকে লাবনী মোড় থেকে তুলে আনা, থানা লকআপে নির্যাতন ও সেখান থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করন।

পরবর্তীতে এক আদেশে ওই বছর ৩ অক্টোবরের মধ্যে এ সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ডা. জনিকে থানায় এনে আটক রাখার সত্যতা মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবদন পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট ডা. জনি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি নিয়ে তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ, ফিরোজ হোসেন মোল্ল্যা ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা গ্রহণ ও একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যেতে পারে বলে এক আদেশে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গার আইন সহায়তা চেয়ে না পেয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সহায়তায় নিখোঁজ জনির বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ ২০২১ সালর ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন, ফিরোজ হোসেন মোল্লা ও উপপরিদর্শক হিমেলের বিরুদ্ধে জনিকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়।

সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেমউদ্দিন ও ফরহাদ হোসেন বলেন, থানা লকআপে তিন দিন আটক রাখার পর ডা. মোখলছুর রহমান জনি নিখোঁজ হয়ে গেল। ভিকটিম উদ্ধারে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গত ২৬ মে এমদাদ শেখ ও হিমেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও তারা বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফিরোজ হোসেন মোল্লার জামিন বাতিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান আসামি এমদাদ শেখ ও হিমেলের মালামাল ক্রোকের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাতক্ষীরা থানায় হামলার চেষ্টা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি

সাতক্ষীরা থানার সাবেক ওসি-এসআইয়ের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ

আপডেট সময়: ০৪:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

আট বছর আগে সাতক্ষীরা শহরের পারকুকরালির হোমিও চিকিৎসক ডা. মোখলেছুর রহমান জনিকে লকআপে তিন দিন আটক রাখার পর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সদর থানার সাবেক ওসি এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেনের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম এসএম আশিকুর রহমান এ আদেশ দেন। আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলায় সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেনের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জামিন বাতিলের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্লার। সাবেক ওসি এমদাদুল হক শেখ পিরাজপুর জেলা সদরের পিরাজপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে ও সাবেক এসআই মো. হিমেল হোসেন গোপালগঞ্জ জেলা সদরের করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালর ৪ আগস্ট রাত সাড় ৯টার দিকে অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ কিনতে গেলে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী সিনেমা হলের সামনে ফটোস্ট্যাটের দোকান থেকে এসআই হিমেল হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে (২৭) থানায় ধরে নিয়ে যান। ৫,৬ ও ৭ আগস্ট স্ত্রী জেসমিন নাহার রেশমা তার শ্বশুর আব্দুর রাশেদ, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ ও স্বজনদের নিয়ে থানা লকআপ থেকে খাবার দিয়েছেন ও তার সঙ্গে কথা বলেছেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেলের সঙ্গে কথা বললে জনির আল্লার দল নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে তৎকালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন ও উপপরিদর্শক হিমেল ডা. জনির স্ত্রী রেশমার কাছে দাবি করেন মোটা অংকের টাকা। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়।

৮ আগস্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ, সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন (পাটকলঘাটায় ১২০ ভরি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২০২১ সালে চাকরিচ্যুত), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি।

ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ সাধারণ ডায়েরি না নেওয়ায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেসমিন নাহার রেশমা। অবশেষে ২০১৭ সালর ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন জেসমিন নাহার রেশমা। মামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।

পরবর্তীতে আদালত মোখলছুরকে ওই বছরের ১২ এপ্রিলের মধ্যে সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করানোর নির্দেশের পাশাপাশি ৯ মে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা লিগ্যাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসএম জাভিদ হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তকালে সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্লা নিখোঁজ ডা. মোখলেছুর রহমান জনি আল্লার দল নামে একটি জঙ্গি সংগঠন করতেন বলে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন রিটকারীর বিপক্ষে যায়। পরে আদালতের নির্দেশে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুল্লাহ মাহমুদ হাইকোর্টে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে থানা লকআপ থেকে ডা. জনির নিখোঁজ হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

প্রতিবেদনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরাজ হোসেন মোল্লা ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেন হোমিও চিকিৎসক ডা. মোখলেছুর রহমানকে লাবনী মোড় থেকে তুলে আনা, থানা লকআপে নির্যাতন ও সেখান থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করন।

পরবর্তীতে এক আদেশে ওই বছর ৩ অক্টোবরের মধ্যে এ সম্পর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ডা. জনিকে থানায় এনে আটক রাখার সত্যতা মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবদন পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট ডা. জনি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি নিয়ে তার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ, ফিরোজ হোসেন মোল্ল্যা ও উপপরিদর্শক হিমেল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা গ্রহণ ও একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যেতে পারে বলে এক আদেশে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গার আইন সহায়তা চেয়ে না পেয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সহায়তায় নিখোঁজ জনির বাবা শেখ আব্দুর রাশেদ ২০২১ সালর ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ এমদাদ হোসেন, ফিরোজ হোসেন মোল্লা ও উপপরিদর্শক হিমেলের বিরুদ্ধে জনিকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়।

সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেমউদ্দিন ও ফরহাদ হোসেন বলেন, থানা লকআপে তিন দিন আটক রাখার পর ডা. মোখলছুর রহমান জনি নিখোঁজ হয়ে গেল। ভিকটিম উদ্ধারে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গত ২৬ মে এমদাদ শেখ ও হিমেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও তারা বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের বাড়ির মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফিরোজ হোসেন মোল্লার জামিন বাতিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান আসামি এমদাদ শেখ ও হিমেলের মালামাল ক্রোকের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।